বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে ঢাকায় ফিরছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তার দেশে ফেরাকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। তাকে রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিভিআইপি) ঘোষণা করে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি খালেদা জিয়া-কে ভিভিআইপি ঘোষণা করে তার নিরাপত্তায় এসএসএফ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল-এ শারীরিকভাবে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তার নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সরকারি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, একই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানকেও ভিভিআইপি ঘোষণা করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে লিখিত নির্দেশনাও পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর বিজি-২০২ ফ্লাইটে আগামী ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তারেক রহমান। ওই ফ্লাইটে তার পরিবারের সদস্য ও বিএনপির শীর্ষ কয়েকজন নেতাও থাকবেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই ফ্লাইট থেকে দুই কেবিন ক্রুকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বিমান সূত্র জানিয়েছে।
সরকারি মহলের মতে, তারেক রহমানকে ভিভিআইপি ঘোষণা করে এসএসএফের নিরাপত্তা দেওয়া হলে তা হবে রাজনৈতিক বাস্তবতা ও নিরাপত্তা বিবেচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা শিগগিরই আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।