শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

ইবি ছাত্রদল নেতা কতৃক শিক্ষকদের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন

ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ, সদস্য নুর উদ্দিন ও রাফিজ আহমেদ কর্তৃক প্রক্টর, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি ও অন্যান্য শিক্ষকদের গালিগালাজ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিভাগগুলো হলো— অর্থনীতি, আরবি ভাষা ও সাহিত্য এবং ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং। রবিবার (২১ ডিসেম্বর) বেলা দুইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে এক মিছিল […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৮:১২

ইবি প্রতিনিধি:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ, সদস্য নুর উদ্দিন ও রাফিজ আহমেদ কর্তৃক প্রক্টর, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি ও অন্যান্য শিক্ষকদের গালিগালাজ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিভাগগুলো হলো— অর্থনীতি, আরবি ভাষা ও সাহিত্য এবং ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) বেলা দুইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে এক মিছিল নিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে সমবেত হয় তারা। পরে সেখানে মানববন্ধন করেন তারা। এসময় প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

মিছিলে তাদেরকে ‘শিক্ষকদের অপমান সইবে নারে ইবিয়ান’, ‘ প্রক্টরের অপমান সইবে নারে ইবিয়ান’, ‘ ট্রেজারের অপমান সইবে নারে ইবিয়ান’, ‘ প্রোভোস্টের অপমান সইবে নারে ইবিয়ান’, ‘ অপমানকারীদের কালো হাত ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, “যেসব শিক্ষকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিশ্রমী ও সুনামধন্য শিক্ষকদের মধ্যে কয়েকজন। শুধু ওই শিক্ষকরা নন, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো শিক্ষকের সম্পর্কে একটি ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের এ ধরনের ন্যাক্কারজনক মন্তব্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা চাই, তাদের ক্ষমা চাওয়া শুধু প্যাডে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে হোক।

তারা শুধু শিক্ষকদেরই অবমাননা করেনি, বরং ওই হলের ছাত্রীদের জড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। নির্দিষ্ট কোনো সংগঠন নয়, যেকোনো দল-মতের শিক্ষার্থী যদি শিক্ষক ও ছাত্রীদের সম্পর্কে এমন বাজে মন্তব্য করে, তাহলে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আমাদের প্রতিবাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, ভবিষ্যতে যেন কেউ শিক্ষক ও ছাত্রীদের বিষয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য না করতে পারে। আমরা তাদেরকে সতর্ক করছি।

আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী রাউফুল্লাহ বলেন, কয়েকজন শিক্ষককে উদ্দেশ্য করে যেসব ছাত্রনেতারা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, তারা আসলে কাদের নেতা? তাঁদের ভাষা যদি এমন হয়, তবে তা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। যারা শিক্ষক ও ছাত্রীদের জড়িয়ে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, তারা কীভাবে নিজেদের ছাত্রনেতা বলে দাবি করেন?

তিনি আরও বলেন, গালি দেওয়ার রাজনীতি, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের রাজনীতি এবং শিক্ষক-ছাত্র সবাইকে অপমান করার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। শুধু একটি প্যাডে লিখিত ক্ষমা চাওয়ায় বিষয়টি সীমাবদ্ধ রাখা চলবে না; বরং প্রকাশ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। ছাত্র রাজনীতি হতে হবে ছাত্রদের কল্যাণে—অপমান, অশালীনতা বা দম্ভ প্রদর্শনের জন্য নয়।

ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মুবাশ্বির আমিন বলেন, ১৬ই ডিসেম্বর কয়েকজন শিক্ষককে একটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে অপমান করেছে। তারা সেখানকার নারী শিক্ষার্থীদেরও হেনস্তা করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ​আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে আর কোনো শিক্ষকের অপমান সইবো না। যারা এ ধরণের ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমরা দেখেছি তারা তাদের সংগঠনের প্যাডে ক্ষমা চেয়েছে। কিন্তু অবিলম্বে তাদেরকে জনসমুক্ষে তাদের ক্ষমা চাইতে হবে। তারা যাতে ভবিষ্যৎে এরকম দুঃসাহস আর না দেখাতে পারে এজন্যই আমাদের আজকের এই কর্মসূচি।

উল্লেখ্য, গত ১৬ই ডিসেম্বর রাতে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলে মহান বিজয় দিবস ও শিক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারিত সময়ের পর উচ্চ শব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। অনুষ্ঠান দেরিতে শেষ হওয়ায় পড়াশোনায় ব্যাঘাতের অভিযোগ তুলে শাখা ছাত্রদলের সদস্য রাফিজ আহমেদ ফেসবুক লাইভে আসেন। এ সময় উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতিকে উদ্দেশ্য করে শাখা ছাত্রদলের তিন নেতার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে শাখা ছাত্রদলের ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেয় এবং অভিযুক্তরা অনাকাঙ্ক্ষিত ভাষা ব্যবহারের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে।

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।