নূরুল আলম কামাল, নেত্রকোনা :
নেত্রকোনা হাওরাঞ্চলে মানুষের প্রধান আয়ের উৎস ধান উৎপাদন। ধান উৎপাদন করে আয়ের টাকায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবারের ব্যয়সহ সকল খরচ বহন করা হয়। এসব ফসল রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রতি বছর বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
গত কয়েক বছর ধরে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প কমিটি ও কাজ শুরু হচ্ছে না। তবে পাউবো’র দাবি হাওরের পানি নামতে বিলম্ব হওয়ায় বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। প্রশাসন বলছে নির্মাণ কাজ শুরু করতে দেরি হলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করা হবে।
এ নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ফসলহানির আতঙ্ক বিরাজ করছে। নেত্রকোনা পাউবো ও কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হাওরে এক সময় ঠিকাদারদের মাধ্যমে ফসল রক্ষার বাঁধ নির্মাণ করা হতো। ২০১৭ সালে হাওরে ব্যাপক ফসল হানি হওয়ার পর বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
এরপর পাউবো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেন। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য প্রকৃত কৃষক স্থানীয় সুবিধাভোগীদের নিয়ে ৫ থেকে ৭ সদস্যের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী একটি পিআইসি সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকার কাজ করতে পারেন। নেত্রকোনা জেলার অধীনে ৩৬৫ কিলোমিটার অস্থায়ী ডুবন্ত বাঁধ রয়েছে।
এসব বাঁধের উপর হাওরে কৃষকদের প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমির ব্যুরো ফসল নির্ভর করে। এ বছর বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য এখনও প্রকল্প নির্ধারণ হয়নি। গতবছর জেলায় ১৯১ টি প্রকল্পে ১৭৩ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
এতে প্রায় ৩৫কোটি টাকার বেশী ব্যয় হয়। হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ৩০অক্টোবর প্রকল্প নির্ধারণ করে ৩০নভেম্বর পিআইসি কমিটি গঠন করতে হয়।
১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ২০ডিসেম্বর পর্যন্ত পাউবো বাঁধের সার্ভের কাজ চলমান থাকায় প্রকল্প নির্ধারণ করতে পারেনি। এ কারণে প্রকল্পও অনুমোদন হয়নি। ফলে বাঁধের কাজ শুরু করতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে।কৃষকরা বলছেন-আজ ডিসেম্বরের ২১তারিখ।
এখন ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ পুরোদমে চলার কথা। কিন্তু পাউবোর লোকজন মাপামাপি করছে। বাঁধের কাজ শুরুই হয়নি কবে শেষ করবে আল্লাহই ভাল জানেন। যেভাবে ঢিলেমিশি হচ্ছে সময় মতো কাজ সম্পন্ন করা তো দূরের কথা আগাম বন্যা হলে কিছু বাঁধ ফসলহানির কারণ হতে পারে।
কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর এলাকার হৃদয়, মনকান্দা গ্রামের হোসেন, বারহাট্রা উপজেলার মোহনপুর গ্রামের নিওন আহমেদ, মনির হোসেন পাঠান, মোহনগঞ্জ উপজেলার বেতাম গ্রামের মাসুদ, সুখদেবপুর গ্রামের হাসান, খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া শিবির এলাকার নূর আহমদ, লিপসিয়া আজিজুল, রসুলপুর গ্রামের মুজিবুর, মদন উপজেলার কাতলা গ্রামের নূরুল হুদা,
ঘাটুয়া এলাকার আবুল কালাম, গোবিন্দশ্রী গ্রামের সুজন, মাজলুসহ অনেকেই জানান, হাওরে এক ফসলী জমি। এ থেকে উৎপাদিত ফসলের আয় দিয়ে সারা বছরের পরিবারের জীবিকাসহ ব্যয়ভার নির্বাহ করা হয়। হাওর থেকে পানি নেমে গেছে। জমিতে ধান রোপন পুরোদমে শুরু হয়েছে। কিন্তু বাঁধ নির্মাণ কাজ এখনও শুরু হয়নি। যদি আগাম বন্যা হয় তাহলে ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।
খালিয়াজুরী খাবিটা স্কীমের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম এর মোবাইল ও হোয়াটসআপ নাম্বারে একাধিকবার ফোন করা হলে ফোন রিসিভ করেননি।
নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকাওয়াত হোসেন বলেন, উপজেলা থেকে ইউএনও মহোদয়গণ কমিটি গঠন করতে দেরি করছেন। হাওর থেকে পানি নামতে দেরী হচ্ছে। বাঁধের সার্ভের কাজ হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে ফসলরক্ষার বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
পিআইসি কমিটি গঠন না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, দ্রুত কমিটি গঠন করে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফসলরক্ষার বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করা হবে।