ভারতের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। বিজেপির দাবি, আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দু–মুসলিম বিভাজনের রাজনীতিতে নেমেছেন এবং রাজ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
২০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া অভিযোগ করেন, মমতার নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা হিন্দু দেবদেবী ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করছেন। তিনি বিশেষভাবে তৃণমূলের বিধায়ক মদন মিত্রের বক্তব্যের কথা তুলে ধরেন, যেখানে তিনি প্রভু রামকে মুসলমান বলে দাবি করেন। গৌরব ভাটিয়ার মতে, এই বক্তব্যে কোটি কোটি হিন্দুর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে, অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীরবতা বিষয়টিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।
বিজেপির এই মুখপাত্র বলেন, এত বড় বিতর্কের পরও মদন মিত্রের বিরুদ্ধে দলীয় কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তাকে বহিষ্কারও করা হয়নি। এতে স্পষ্ট হয় যে, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব ইচ্ছাকৃতভাবেই সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়াতে চাইছে এবং হিন্দু–মুসলিম দাঙ্গার পরিবেশ তৈরির পথ প্রশস্ত করছে।
গৌরব ভাটিয়া আরও দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝে গেছেন যে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তার পরাজয় অবশ্যম্ভাবী। সেই কারণেই একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে তুষ্ট করতে দলীয় নেতাদের দিয়ে পরিকল্পিতভাবে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি রক্ষার দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রীর, কিন্তু সাম্প্রদায়িক মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে মমতা নিজেই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিজেপির মুখপাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীত ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৯ সালে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান শুনে মমতার প্রতিক্রিয়া এবং মহাকুম্ভকে ‘মৃত্যু কুম্ভ’ বলে আখ্যা দেওয়ার মতো মন্তব্য হিন্দু সমাজে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল।
গৌরব ভাটিয়া প্রশ্ন তোলেন, কেন তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস ও আদর্শকে অবজ্ঞা করেন এবং অন্য কোনো ধর্ম নিয়ে এমন মন্তব্য করার সাহস দেখান না। তার অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দু সমাজকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আগামী নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করে এর উপযুক্ত জবাব দেবে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?