রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হিউম্যান রাইটস সোসাইটি (জেএনইউএইচআরএস)। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দপ্তর সম্পাদক উম্মে হাবিবা সাক্ষরিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাত পৌনে ১০টার দিকে শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর সংবাদ তাদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, শহিদ শরীফ ওসমান বিন হাদি ছিলেন একজন সক্রিয় নাগরিক কণ্ঠস্বর, যিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অধিকারে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন। সন্ত্রাসী হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তার এই অকাল মৃত্যু কেবল একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়; বরং এটি সমাজে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির একটি ভয়াবহ প্রতিফলন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হিউম্যান রাইটস সোসাইটি মনে করে, শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি রাজনৈতিক সহিংসতার একটি মর্মান্তিক পরিণতি, যা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কয়েকটি গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায়ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার-এর কার্যালয়ে হামলা, পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট, উদীচীসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
সংগঠনটির মতে, এ ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি একটি গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে।
এই প্রেক্ষাপটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হিউম্যান রাইটস সোসাইটি চার দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- শহিদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের ঘটনার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করা; হত্যাকাণ্ডসহ গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে হামলার সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তি ও পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা।
এছাড়া সংগঠনটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের জীবন ও মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত সহিংসতা ও সন্ত্রাসী হামলা রোধে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।