জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ থেকে ভারতীয় পণ্য বর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক দেওয়া হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা একযোগে ভারতীয় পণ্য বয়কটের স্লোগান দিতে থাকেন।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্র-জনতা শাহবাগে জড়ো হতে থাকে। কেউ মিছিল নিয়ে, কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেখানে উপস্থিত হন। হাতে পতাকা আর কণ্ঠে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শাহবাগ। ফ্যাসিবাদের কালো হাত গুঁড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান, আওয়ামী লীগের রাজনীতি এ দেশে চলবে না, হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না, আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়াই চলবে, এই মুহূর্তে দরকার বিপ্লবী সরকার, লীগ ধর জেলে ভর—এমন নানা স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে বিক্ষোভস্থল।
এদিকে শহীদ হাদির মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার বাদ জুমা শাহবাগের ৩৬ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ, ইসলামি ছাত্রশিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টি। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করা হবে।
বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাজধানীজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে তার মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত হলে ছাত্র-জনতার মধ্যে ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক শরিফ ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে গণসংযোগ চলাকালে আততায়ীর গুলিতে গুরুতর আহত হন। চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয় এবং গুলিটি তার মাথায় লাগে। ঢাকা ও পরে সিঙ্গাপুরে দীর্ঘ চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা এখন উত্তাল ও থমথমে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।