রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ও বিশেষায়িত উপজেলা উখিয়ার প্রশাসন ও সেবাখাতের নয়টি গুরুত্বপূর্ণ পদে বর্তমানে নারী কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের প্রশাসনিক বাস্তবতায় এটি এক নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ চিত্র, যা নারীর ক্ষমতায়নের দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই উখিয়াকে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, সীমান্ত নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, ভূমি ব্যবস্থাপনা, পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তার মতো জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যু সামলাতে হচ্ছে।
এমন বাস্তবতায় প্রশাসন ও সেবাখাতের বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে একযোগে নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতিকে কেউ দেখছেন সময়োপযোগী ও পরিণত সিদ্ধান্ত হিসেবে, আবার কেউ বাস্তবতার নিরিখে একে চ্যালেঞ্জিং বলেও মন্তব্য করছেন।
বর্তমানে উখিয়ায় নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রিফাত আসমা। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাসরিন জেবিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) যারীন তাসনিম তাসিন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বেনজির ইকবাল, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাবিবা জাহান, উপজেলা সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা শাহরিন সুলতানা,
উপজেলা তথ্য আপা আলো তংচংগা, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা ইয়াছমিন আক্তার এবং ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সালেহা আক্তার। প্রশাসন, ভূমি, স্বাস্থ্য, কৃষি, নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট এসব দপ্তর উখিয়ার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় একাংশের মত, সংকটপূর্ণ উখিয়ায় নারীদের নেতৃত্ব সুশাসন, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে পারে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নিয়মতান্ত্রিকতা আরও শক্তিশালী হবে—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে।
তবে অন্যদের মতে, হঠাৎ সংকট, আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা রাজনৈতিক চাপের মতো পরিস্থিতিতে দ্রুত ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা সময়ই প্রমাণ করবে।
এদিকে ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর উখিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নারী কর্মকর্তারা যদি সময়োপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তাহলে উখিয়ার প্রশাসন ও সেবাখাতে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন সম্ভব।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সংকটসঙ্কুল এই উপজেলাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধবভাবে এগিয়ে নেবেন—এমন প্রত্যাশাই এখন সচেতন মহলের।