কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উদ্যাপন অনুষ্ঠানে দলীয় স্লোগান নিষিদ্ধ করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভাকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে পড়তে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপর্যায়ে অনুষ্ঠানে সাময়িক বিরতিও দিতে হয়।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের আগে একটি মিছিলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ‘স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া—লও লও লও সালাম’ স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় মঞ্চের একপাশ থেকে ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দলীয় স্লোগান না দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ইউএনওর এই নির্দেশে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা ইউএনওকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে হট্টগোল শুরু করেন। এতে অনুষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হয় এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিছু নেতা-কর্মী ইউএনওর বদলির দাবিও তোলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও আলোচনার জন্ম দেয়। উত্তেজনার কারণে কিছু সময়ের জন্য অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়। পরে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং এরপর বাকি কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
ভাইরাল ভিডিওতে জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাজহারুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল হক রাজন, সাবেক পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসিম সবুজসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা-কর্মীকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট মাজহারুল ইসলাম বলেন, ইউএনওর আচরণ রূঢ় ছিল এবং প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। তবে ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় বিষয়টি বড় আকার ধারণ করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল হক রাজন বলেন, ইউএনওর আচরণ তাদের কাছে ভালো মনে হয়নি।
অন্যদিকে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসী মাসনাদ বলেন, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দলীয় স্লোগান কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের পরিস্থিতি প্রশাসনকে হেয় করে এবং রাজনৈতিক বিভাজনের প্রতিফলন হতে পারে।
এ বিষয়ে ইউএনও কাজী নাহিদ ইভার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।