ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা অপরাধীরা এখনও দেশেই রয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিতভাবে এই অপরাধীদের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন ফাতিমা তাসনিম জুমা। পোস্টে তিনি লেখেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের নিশ্চিত করেছে যে ঘটনার ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যেই দেশের সীমান্ত সিল করা হয়েছিল।
জুমা বলেন, “এটা স্পষ্ট যে অপরাধীরা এখনো দেশেই আছে। তারা বর্ডার পার হয়ে গেছে—এই ধরনের প্রোপাগাণ্ডা ছড়িয়ে আসল অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।” তিনি আরও বলেন, “এক-দুজনকে ধরে ঘটনাটিকে স্বাভাবিক বা বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
ফাতিমা তাসনিম জুমা অভিযোগ করেন, এই হামলা কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়; বরং একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট এর সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, “ফয়সালসহ পুরো সিন্ডিকেটকে গ্রেপ্তার করতে হবে। অপরাধীদের জীবিত অবস্থায় আমাদের সামনে হাজির করতে হবে। আইনের আওতায় এনে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়, এটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ভিন্নমতের রাজনীতির ওপর সরাসরি আঘাত। এই ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত না হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
জুমা জানান, দেশের সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিকভাবে সচেতন নাগরিকরা এই ঘটনার ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অপরাধীদের রক্ষার কোনো অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না এবং হামলার পেছনে থাকা সব পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজধানীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। এই ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।