মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের আত্মত্যাগ স্মরণ করে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের ১নং যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগ এবং এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। সেই স্বাধীনতার ইতিহাস শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, বরং জাতির জন্য এক চিরন্তন দায়বদ্ধতার নাম। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানেও অসংখ্য ছাত্র ও তরুণ তাদের তাজা প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হয়েছে। অনেকেই এই আন্দোলনকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা বা দ্বিতীয় বিজয় দিবস হিসেবে অভিহিত করছেন।
মমিনুল ইসলাম জিসান বলেন, স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিতে হয়েছে—এটাই আমাদের ইতিহাস। কিন্তু স্বাধীনতার নামে বারবার নতুন করে রক্তের সাগর পাড়ি দিয়ে তৃতীয় কোনো স্বাধীনতা বা বিজয় দিবস অর্জনের প্রয়োজনীয়তা কোনো বিবেকবান জাতি চায় না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে আবারও রক্তপাতের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের কথা বলতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতা, গণতন্ত্রের সংকট ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণেই বারবার গণআন্দোলনের সৃষ্টি হয়। তাই বিজয় দিবসের শিক্ষা হওয়া উচিত—জনগণের অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
বিজয় দিবসের অঙ্গীকার হিসেবে তিনি বলেন, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আত্মত্যাগ স্মরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক জাতির সম্মিলিত লক্ষ্য। নতুন প্রজন্মের কাছে বিজয় দিবসের প্রকৃত অর্থ—আর কোনো রক্তপাত নয়, আর কোনো অস্থিতিশীলতা নয়।