ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ ঘটনায় যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার পর নৈতিকভাবে ওই পদে থাকার কোনো অধিকার তার নেই।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বানে আয়োজিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, “হাদির ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক সহিংসতার অংশ। এই প্রেক্ষাপটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে মন্তব্য করেছেন, তার অধীনে আর কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব কি না—সে প্রশ্ন আমরা রেখে গেলাম।” নাহিদ ইসলাম বলেন, অবিলম্বে সিইসিকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে, অন্যথায় এই নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা আরও নষ্ট হবে।
নাহিদ ইসলাম নির্বাচন কমিশনকে ‘অথর্ব’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “এই অথর্ব নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের যে দাবি উঠেছে, তা সম্পূর্ণ যৌক্তিক। “নৈতিকভাবে তিনি আর এই দায়িত্বে থাকতে পারেন না। ৫ আগস্টের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বরং জুলাই বিপ্লবীদের পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছে,” বলেন তিনি।
ভারতের ভূমিকা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “ভারত যদি মনে করে ৫ আগস্টের পরও তারা আগের মতো বাংলাদেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে, নির্বাচনে কারচুপি করবে—তাহলে তারা ভুল করছে।” তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আর কোনো বিদেশি আগ্রাসন মেনে নেবে না।
আগামী বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, “১৬ ডিসেম্বর আমরা যেমন বিজয় অর্জন করেছি, তেমনি সেদিন থেকেই আমাদের প্রতিরোধের যাত্রাও শুরু হয়েছিল। সেই প্রতিরোধ ছিল ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। আজও সেই প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে হচ্ছে।”
তিনি ঘোষণা দেন, বিজয় দিবস উপলক্ষে আগামীকাল সারা দেশের রাস্তায় রাস্তায় প্রতিরোধের কর্মসূচি শুরু হবে এবং ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হবে।
সমাবেশে বক্তারা হাদির ওপর হামলার বিচার, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানান।