জুলাই বিপ্লবের অগ্রনায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির রক্তের কসম খেয়ে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, ভারত যদি শেখ হাসিনা, কামাল ও হাদির ওপর হামলাকারীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে না দেয়, তাহলে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে কর্মরত সব ভারতীয় নাগরিকের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করার দাবি জানান।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বানে আয়োজিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর ১৬ মাস পেরিয়ে গেলেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতে নিরাপদ আশ্রয়ে বসে শেখ হাসিনা দেশব্যাপী সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারীদের লক্ষ্য করে টার্গেট কিলিং পরিচালনা করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার দক্ষতা ও তৎপরতার ঘাটতি স্পষ্ট বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আমার দেশ সম্পাদক বলেন, অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে শুধু রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে চলবে না। তিনি আগামীকাল থেকেই দেশের সব ওয়ার্ডে ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গণকমিটি’ গঠনের আহ্বান জানান।
এসব কমিটি সন্দেহভাজন ফ্যাসিস্ট কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, স্থানীয় প্রশাসনের ওপর নজরদারি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তার কাজ করবে বলে জানান তিনি।
শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়াকে বাংলাদেশের জন্য বড় নিরাপত্তা হুমকি উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, তাকে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত না করা গেলে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকবে না। তিনি দাবি করেন, ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং এ বিষয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদে অবিলম্বে অভিযোগ উত্থাপন করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে দেশব্যাপী সভা-সমাবেশ শুরু করতে হবে। আগামী ২৬ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।
রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে মাহমুদুর রহমান বলেন, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছাড়া ক্ষমতায় থাকা যায়—এমন ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। শেখ হাসিনার ভারতে পালিয়ে যাওয়াই এর প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।