ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারসহ একাধিক দাবিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারা।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিনি কনফারেন্স রুমে এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। একই সময় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অন্য শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ভবন মোড়ে অবস্থান নেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে একই দাবিতে ডাকসু নেতারা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন। সোমবার দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরে তারা দোয়েল চত্বর ও হাইকোর্ট মোড়ের দিকে অগ্রসর হলে সেখানে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। একপর্যায়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আন্দোলনকারীরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে পৌঁছান।
ডাকসু নেতাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য হলো হাদি হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা। তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান চালিয়ে সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার।
ডাকসু নেতারা অভিযোগ করেন, এ ধরনের হামলার পরও জড়িতদের গ্রেপ্তার না হওয়া রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করছে। তারা বলেন, দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে দাবিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বৈঠক শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।