বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে সবচেয়ে উদার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল বিএনপি। এই উদারতার সুযোগ নিয়ে ১৯৭১ সালের আত্মসমর্পণকারী শক্তিগুলো এখন রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ধর্মকে ব্যবসার হাতিয়ার বানানোর কঠোর সমালোচনা করে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ধর্ম কোনো টিকিট বিক্রির বিষয় নয়- না জান্নাতের, না জাহান্নামের। ধর্ম হলো হৃদয়ের বিষয় এবং জীবনাচরণের অংশ। যারা ধর্মের নামে ব্যবসা করছে, তারা শিরক, বিদআত ও নাফরমানিতে লিপ্ত।
তিনি বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসকে শুধুমাত্র একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করলে ইতিহাস ও বাস্তবতার প্রতি অবিচার করা হবে। ১৯৭১ সালের শুরু থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের নেতৃত্বদানের উপযোগী মেধাবী মানুষদের বেছে বেছে হত্যা করা হয়েছিল, যা ছিল একটি জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করার নীলনকশা।
আলাল বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী মূলত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অক্সিলারি ফোর্স হিসেবে কাজ করেছিল। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ দলিলেও অক্সিলারি প্যারামিলিটারি ও পলিটিক্যাল ফোর্সের উল্লেখ রয়েছে। ফলে কারা এই হত্যাযজ্ঞে যুক্ত ছিল, তা বুঝতে দীর্ঘ তর্ক-বিতর্কের প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, যখন কোনো রাষ্ট্র তার জনগোষ্ঠীর একটি অংশকে হত্যাযোগ্য বলে বিবেচনা করে, তখন সেই রাষ্ট্র ফ্যাসিস্ট শাসকে পরিণত হয়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেই পথেই হেঁটেছিল।
এসময় বিএনপির এ নেতা অভিযোগ করেন, সে সময় ইয়াহিয়া খান, টিক্কা খান, ভুট্টো ও গভর্নর এম এ মালিকসহ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। একই সঙ্গে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়ে তিনি নিজে আত্মসমর্পণ করেছিলেন এবং তার পরিবার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় ছিল।
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আরও বলেন, হাজারও মানুষ শহীদ হয়েছে, লাখ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছে। অথচ যারা সেই অপরাধে যুক্ত ছিল, তারা আজও নতুন রূপে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করে তিনি বলেন, অধ্যাপক গোবিন্দচন্দ্র দেব, শহীদুল্লাহ কায়সার, আলতাফ মাহমুদসহ অসংখ্য মানুষকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। জহির রায়হানের নিখোঁজের ঘটনাও স্বাধীন বাংলাদেশে একটি ভয়াবহ ট্র্যাজেডি।