আসন্ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট ৩৪টি পদের বিপরীতে নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে রইলেন ১৮৯ জন প্রার্থী। যাচাই-বাছাইয়ের কঠোর প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ৪২ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী।
বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে জকসুর নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের ৩৮ জন এবং হল সংসদের ৪ জন রয়েছেন। চূড়ান্ত তালিকায় কেন্দ্রীয় সংসদের ২১ পদের বিপরীতে ১৫৬ জন এবং একমাত্র হল সংসদের ১৩ পদের বিপরীতে ৩৩ জন স্থান পেয়েছেন।
ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ১৩ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৯ জন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এছাড়া অন্যান্য সম্পাদকীয় পদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র পদে ৪, শিক্ষা ও গবেষণায় ৯, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ৫, স্বাস্থ্য ও পরিবেশে ৫, আইন ও মানবাধিকারে ৪, আন্তর্জাতিক সম্পাদকে ৮, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে ৭, ক্রীড়ায় ৭, পরিবহনে ৪, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণে ১০ এবং পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে ৭ জন প্রার্থী রয়েছেন। সদস্য পদের ৭টি আসনের বিপরীতে লড়বেন ৫৭ জন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল ‘নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী’ শিক্ষার্থী সংসদে ভিপি পদে ৩ জন, জিএস পদে ৩ জন এবং এজিএস পদে ২ জন প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছেন। এছাড়া সাহিত্য ও প্রকাশনায় ২, সংস্কৃতিতে ৪, পাঠাগারে ২, ক্রীড়ায় ২, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণে ৩ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। হলটির ৪টি সদস্য পদের জন্য লড়বেন ৮ জন।
এর আগে গত ১৭ ও ১৮ নভেম্বর ৩৪টি পদের বিপরীতে ৩১২ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছিলেন ২৪৯ জন। গত ২৪ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন ২৩১ জনের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে কেন্দ্রীয় সংসদে ১৯৪ ও হলে ৩৭ জন ছিলেন। পরবর্তীতে ৪ ডিসেম্বর সিন্ডিকেট সভার পর নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী ৯ ও ১০ ডিসেম্বর প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট সম্পন্ন হয়।
তদন্ত সাপেক্ষে ঝুলে আছে কয়েকজনের ভাগ্য।
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশোধিত নির্বাচনী তফসিলের ১২ ক্রম অনুযায়ী এই তালিকা প্রকাশ করা হলো। তবে প্রাথমিক তালিকায় নাম থাকা কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকায় এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তাদের নাম আপাতত চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের প্রার্থীতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে ‘নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী’ হল শিক্ষার্থী সংসদের প্রার্থীদের তথ্য যাচাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা ও বাদ পড়া প্রার্থীদের প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান বলেন, “আমরা সকলের সবকিছু যাচাই-বাছাই করে জকসুর কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদে চূড়ান্ত প্রার্থিতা প্রকাশ করেছি। প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে থাকা প্রার্থীদের সব অভিযোগের ভিত্তিতে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে কিন্তু এতে ডোপ টেস্ট ও বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে অনেক প্রার্থী বাদ পড়েছেন।”
আপিল ও নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে তিনি আরও বলেন, “আজ বাদ যাওয়া প্রার্থীরা চাইলে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। তবে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সাথে জকসুর নির্বাচনের কোনো প্রভাব পড়বে না।”
উল্লেখ্য, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে এবং ১৪ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১৪ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে নির্বাচনী প্রচারণা। আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ ও গণনা। ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৩০ বা ৩১ ডিসেম্বর।