গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, তারা রাজনীতির মাঠে “ফুটবল” হতে আসেননি; বরং নিজেদের যোগ্যতা, সংগ্রাম ও ত্যাগের মাধ্যমে দল সংগঠিত করে “প্লেয়ার” হয়েই রাজনীতিতে নেমেছেন। তিনি বলেন, “আমরা বাপ-দাদার কোটায় আসিনি; সংগ্রাম করে,
রক্ত দিয়ে রাজনীতির মাঠ তৈরি করেছি। আমরা ভূইফোড় দল নই, নিবন্ধিত রাজনৈতিক শক্তি। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছি, আরও কিছু আসন শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।”
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ৮টায় পটুয়াখালীর গলাচিপায় বকুলবাড়িয়া ইউনিয়ন কলেজ মাঠে ইউনিয়ন কমিটির আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনী সমঝোতা প্রসঙ্গে নুর বলেন, “আমরা জোট করতে পারি বা আসন সমঝোতায় যেতে পারি। যে আসনে আমাদের প্রার্থী থাকবে, অন্য আসনে অন্যদের প্রার্থী থাকতে পারে। সবাইকে নিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠনই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও বিধিগুলো সব রাজনৈতিক দলকে মেনে চলতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা—একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। তিনি বলেন, “আর কোনোদিন ডামি নির্বাচন হবে না, রাতের বেলায় ব্যালট বাক্স ভরে রাখা হবে না, কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে চাইলে বলা হবে না—আপনার ভোট হয়ে গেছে। সেই দিন শেষ।”
নুরুল হক নুর বলেন, “আমাদের ধারণা পরিষ্কার—জনতাই বৈধতা। আমরা ক্ষমতার সঙ্গে আপস করিনি, শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় যাইনি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আজকের পরিবর্তন এসেছে। জনগণই নির্ধারণ করবে কারা সরকার গঠন করবে, আর নির্বাচন কমিশন হবে সেই মাঠের রেফারি।”
সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, “যারা আজ আমাদের নিয়ে কটু কথা বলছে, তারা মানসিকতা, ব্যক্তিত্ব বা রাজনৈতিক অবস্থান—কোনো ক্ষেত্রেই আমাদের সমপর্যায়ের নয়। তাদের জবাব দিয়ে নিজেদের নিচে নামানোর প্রয়োজন নেই। আমাদের শক্তি জনগণ, এবং জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে আর কেউ এই দেশে টিকতে পারবে না।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট শিরিন আক্তার সেলি, যুব অধিকার পরিষদের পটুয়াখালী জেলা শাখার সহ-সভাপতি মহিবুল্লাহ এনিম, গলাচিপা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান ও সদস্য সচিব মো. জাকির মুনসিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।