বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

কু্বির শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত 

রাফি হোসেন কুবি প্রতিনিধি : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৫-এর ফাইনাল। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটায় শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে মুখোমুখি হয়  বাংলা ব্লকড (বিজয়–২৪ হল) ও সুনীতি– এ (সুনীতি–শান্তি হল) দল। বির্তক প্রতিযোগিতায়  স্পিকার হিসেবে ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৩:০৬

রাফি হোসেন কুবি প্রতিনিধি :

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৫-এর ফাইনাল।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটায় শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে মুখোমুখি হয়  বাংলা ব্লকড (বিজয়–২৪ হল) ও সুনীতি– এ (সুনীতি–শান্তি হল) দল।

বির্তক প্রতিযোগিতায়  স্পিকার হিসেবে ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: তরিকুল ইসলাম। বির্তকে বিজয়ী দল হলো বিজয়- ২৪ হলের দল বাংলা ব্লকেড। সেরা বিতার্কিক হয়েছে আবছার উদ্দিন ইফতি। 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা ঘিরে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। আয়োজক হলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তি, উপস্থাপনাশৈলী এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে দক্ষতার ভিত্তিতে বিজয়ী দল নির্ধারণ করা হয়।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রভোস্ট মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা নিয়মিতভাবে হতে পারে কি না—এ নিয়ে অনেকের সংশয় থাকলেও প্রথম আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতা তার সফল বাস্তব উদাহরণ তৈরি করেছে।

আয়োজকদের আন্তরিকতা, উদ্দেশ্য ও নিষ্ঠা স্পষ্ট হয়েছে পুরো আয়োজনজুড়ে। তিনি মনে করেন, বিতর্ক এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে যুক্তিবোধ, খণ্ডন, বিশ্লেষণ—এসবের নিয়মিত চর্চা মানুষকে আরও পরিশীলিত করে। এজন্য তিনি কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।’

তিনি আরও বলেন,’পাঁচটি হল থেকেই অসাধারণ সাড়া পাওয়া গেছে এবং প্রতিটি দলই জয়ের জন্য সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, যা অত্যন্ত সন্তোষজনক। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল প্রথমবারের মতো আন্তঃহল বিতর্ক আয়োজন করতে পেরে গর্বিত।

ফাইনালে “বিজয়–২৪ হল” ও “সুনীতি–শান্তি হল” দুই দলের প্রতিযোগিতা ছিল অত্যন্ত মানসম্মত। বিচারকদের রায়ের ভিত্তিতে বিজয়–২৪ হল চ্যাম্পিয়ন হলেও সুনীতি–শান্তি হলের মেয়েরা দারুণ পারফরমেন্স করে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে। জয়–পরাজয় নয়, অংশগ্রহণ ও আগ্রহই সবচেয়ে বড়—উল্লেখ করে তিনি দুই দলকেই অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।’

বির্তক প্রতিযোগিতার স্পিকার ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘যে কোনো আয়োজন—কনসার্ট হোক বা বিতর্ক—রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।

ভোট বা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও পরিষ্কার হওয়া জরুরি যে সিদ্ধান্তটি প্যানেলভিত্তিক নাকি ব্যক্তিভিত্তিক; ‘প্যানেলকে ভোট দেব না কিন্তু প্যানেল থেকে কাউকে নেব’—এমন দ্বৈত অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়। বিতর্কের মঞ্চে রাজনীতি নয়, যুক্তি ও ব্যক্তিগত দক্ষতাই প্রধান। তাই রাজনৈতিক বিভ্রান্তি দূর করতে ও ন্যায়সংগত পরিবেশ বজায় রাখতে একটি ক্লারিফিকেশন কমিটি থাকা প্রয়োজন, যারা নিয়ম ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।’

কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি  সাদিয়া আফরিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় এটি সবার জন্যই এক গর্বের অর্জন।

ছেলেদের হলে মেয়েদের অংশগ্রহণ এবং তাদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত হওয়াকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক সংস্কৃতির দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এ আয়োজন হল–সংস্কৃতির প্রচলিত কিছু মানসিক বাধা ভাঙতে সাহায্য করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে থেকে শুধুই বিতর্কের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। বিজয়ী ও পরাজিত উভয় দলকেই অভিনন্দন জানিয়ে সভাপতি বলেন, প্রথম আয়োজনেই এমন সাফল্য অত্যন্ত উৎসাহজনক।

কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির পক্ষ থেকে তিনি সকল অংশগ্রহণকারী, সহযোগী ও আয়োজন–সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বিতর্ক অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান।’

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার […]

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:০৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান।

শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলার ঘটনার প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক আলতাফ হোসেন শরিফ ওসমান হাদিকে কটূক্তিমূলকভাবে ‘জংলি’ আখ্যা দেন।

ওই পোস্টে তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা ও গণমাধ্যমে হামলার ঘটনাগুলোর সঙ্গে হাদির নাম জড়িয়ে মন্তব্য করেন, যা শিক্ষার্থীদের মতে চরম অবমাননাকর ও উসকানিমূলক।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এতে লেখা ছিল—‘হাদিকে যিনি জংলি বলেন, তিনি নিজেই জঞ্জাল’, ‘আপনি জংলি কাকে বলেন? জুলাই যোদ্ধাকে?’, ‘হাদি ভাইয়ের মতো আমরা সবাই জংলি, এই জঙ্গলে আমরা এমন শিক্ষক চাই না’—ইত্যাদি।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করা, শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের অপতৎপরতা বন্ধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা,

ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং শহীদ আবরার ফাহাদ ও শহীদ ওসমান হাদির নামে হল বা স্থাপনার নামকরণ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন বিপ্লবীকে ‘জংলি’ বলা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং দেশের জন্য আত্মত্যাগ ও জাতির সম্মানকে অপমান করার শামিল। তারা দাবি করেন, যিনি জাতির বিবেক গঠনের দায়িত্বে আছেন, তাঁর কাছ থেকে এমন ভাষা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ক্যাম্পাসে আবারও ফ্যাসিবাদী মানসিকতা মাথাচাড়া দিতে পারে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত শিক্ষক আলতাফ হোসেন বর্তমানে স্কটল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন।