গলাচিপার আটখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বুধবার বিকেল ৫টায় ডাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে রাষ্ট্র মেরামতে ৩১ দফা বাস্তবায়ন ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় জনসভা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন বলেন, ‘গণ অধিকারের প্রার্থী এমপি হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে’—এমন মন্তব্য অনেকেই করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে যেসব রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিরা নিরাপত্তার জন্য গ্রহণযোগ্য ছিলেন না, তাদের গণ অধিকারে নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে।
হাসান মামুন আরও বলেন, ‘যদি আমাদের কারণে আপনারা কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে আমাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন। আর যদি তাদের আচরণে কষ্ট পান, তবে তাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন।’
তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে বলেন, ‘যাকে ভোট দিলে আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারবেন, সন্তানরা নিরাপদে স্কুলে যেতে পারবে, সম্পদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিরাপদ থাকবে—তাদেরকেই ভোট দিন।’
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সরোয়ার খন্দকার ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিদুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার হাওলাদার, সহসভাপতি খন্দকার মিজানুর রহমান, এড. হাবিবুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মো. মাসুম বিল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মশিউর রহমান শাহিন, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. হাসান হাওলাদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি’র অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
হাসান মামুন বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর আমরা আন্দোলন করেছি, নির্যাতন-নির্বাসন সহ্য করেছি। শহিদ শাহজাহান খান জীবন দিয়েছেন বিএনপির এমপি বানানোর জন্য—অন্য কারও জন্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ গলাচিপা-দশমিনা গড়ে তুলতে চেয়েছি। কিন্তু ৫ তারিখের পর নতুন একটি রাজনৈতিক দল সরকারপন্থী আচরণ করে বিভিন্ন জায়গায় উস্কানি, সন্ত্রাস ও হামলা চালিয়েছে। চরবিশ্বাসে আমাদের কার্যালয় ভাঙচুর করেছে, কর্মীদের রক্তাক্ত করেছে। তবুও আমরা ধৈর্য ধরে আছি। ধৈর্যের মধ্য দিয়েই বিএনপির বিজয় নিশ্চিত করবো ইনশাল্লাহ।’