গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে অবদান অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “শেখ মুজিবের অবদান আছে—এটা অস্বীকার করা যাবে না।
মানুষের ভালো-মন্দ মিলিয়েই বিচার করা হয়। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামে তিনি ছিলেন আপসহীন লড়াকু নেতা। এটি সত্য, এবং সত্যকে অস্বীকার করার উপায় নেই।”
একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে নুর এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “শাসক শেখ মুজিবুর রহমানের নীতি বা সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের সমালোচনা থাকতে পারে। রাজনৈতিক নীতি–অবস্থান ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু তার মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব ও ভূমিকাকে অস্বীকার করা শুধু অন্যায়ই নয়, ইতিহাস বিকৃতির শামিল।”
নুর অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী উদ্দেশ্যমূলকভাবে যেকোনো যুক্তিসংগত আলোচনা বা মত প্রকাশকে ‘দলবাজি’ হিসেবে আখ্যা দেয়, যা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, “কেউ যদি বাস্তবতার ভিত্তিতে শেখ মুজিবের মুক্তিযুদ্ধের অবদানকে স্বীকার করে, তাহলে সে আওয়ামী লীগের দালাল হয়ে যাবে—এমন প্রচারণা খুবই জঘন্য। যারা এটা করছে, তারা সমাজে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, এই প্রবণতা যেই দলের লোকই দেখাক—আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, শিবির বা ইসলামী আন্দোলন—সবার ব্যাপারেই সতর্ক থাকা প্রয়োজন। “রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকতেই পারে, কিন্তু ইতিহাস নিয়ে বিভক্তি তৈরি করা দেশের জন্য ক্ষতিকর,” মন্তব্য করেন নুর।
নুরুল হক নুর বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও অবদানকে মূল্যায়ন করা জাতীয় দায়িত্ব। “শেখ মুজিবের ভূমিকা আছে তা স্বীকার করলেই কেউ কোনো দলের সদস্য হয়ে যায় না। বরং সত্যকে স্বীকার করাই পরিপক্ব রাজনীতির পরিচয়।”
টক শোতে তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে নুরের বক্তব্যকে ভারসাম্যপূর্ণ ইতিহাসচর্চার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।