মোঃআতেফ ভূঁইয়া,গাজীপুর সদর প্রতিনিধি:
গাজীপুরে বন বিভাগের এক মামলায় অভিযুক্ত সাত্তার মিয়ার পরিবর্তে কারাগারে আছেন সাইফুল ইসলাম—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়েছে অনুসন্ধানে। আদালতের নথি, কারাগারের রেকর্ড এবং স্থানীয়দের বর্ণনা—সব মিলিয়ে বিষয়টি ‘প্রক্সি হাজিরা’ ও পরিচয় জালিয়াতির ভয়াবহ এক উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।
কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া বন রেঞ্জের কাচিঘাটা বিট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর সরকারি গাছ কাটার সময় কয়েকজনকে আটক করে বন বিভাগ। অস্ত্রধারী স্থানীয়দের চাপের মুখে কর্মকর্তারা পিছু হটে এলাকা ছাড়লেও আলামত জব্দ করে মামলাটি দায়ের করেন।
তিন মাস পর ৭ ডিসেম্বর আদালতে হাজিরা দেন মামলার প্রধান আসামি সাত্তার মিয়া বলে দাবি করা ব্যক্তি। অভিযোগ আমলে নিয়ে তাকে কারাগারে পাঠান বিচারক। কিন্তু তালচালা গ্রামে গিয়ে সাত্তারের সন্ধান মেলেনি। ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, মাওনায় ব্যবসায়িক কাজে আছেন—যেখানে তার থাকার কথা জেলখানায়।
এদিকে, গাজীপুর জেলা কারাগারের নথিতেও বন্দির নাম সাত্তার। তবে বায়োমেট্রিকে ধরা পড়ে তার প্রকৃত পরিচয়—তিনি আসলে সাইফুল ইসলাম। এই অস্বাভাবিকতার পর কারা কর্তৃপক্ষ আদালতে চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি জানান।
জেল সুপার মোহাম্মদ রফিকুল কাদের জানান,
“কারাগারে আনার সময় তিনি নিজেকে সাত্তার হিসেবে পরিচয় দেন। তাই সন্দেহ হয়নি। পরে বায়োমেট্রিক পরীক্ষায় জানা যায় তিনি সাইফুল। বিষয়টি আমরা আদালতকে জানিয়েছি।”
সাত্তারের আইনজীবী শ্যামল সরকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে ভুক্তভোগী সাইফুলের পরিবার স্বীকার করেছেন অর্থের বিনিময়ে এ প্রক্সি হাজিরা হয়েছে। সাইফুলের বাবা রহিম বাদশা বলেন,
“আমরা ভেবেছিলাম ছেলে কারখানায় গেছে। পরে জানতে পারি সে নাকি কারাগারে। জামিনের আশ্বাসে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে সে সাত্তারের হয়ে হাজিরা দিয়েছে। বিষয়টি ভুল হয়েছে—আমরাও অনুতপ্ত।”
কারাগার সূত্র জানিয়েছে, গত এক মাসেই প্রক্সি হাজিরা দিয়ে জেল খাটার এমন তিনটি ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি বিচার বিভাগ, পুলিশ ও কারা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও সততার ওপর বড় প্রশ্ন তুলছে।