বাউল শিল্পী আবুল সরকারের সাম্প্রতিক খোদাদ্রোহী বক্তব্যে দেশজুড়ে যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, সেই ক্ষোভের প্রতিধ্বনি উঠে এসেছে চরমোনাই মাহফিলের ছাত্র গণজমায়েতেও।
শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তি কোনোভাবেই সহনীয় নয়। এমন নাস্তিকতামূলক এবং খোদাদ্রোহী বক্তব্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমর্থন করার মতো অপরাধও ক্ষমার অযোগ্য।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই শিল্পীর পক্ষ নিয়ে এমন অবস্থান নিয়েছেন, যা দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের ঈমানি অনুভূতিতে আঘাত করেছে।
পীর সাহেব বলেন, “দেশবাসী তার এই বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর কোনো কথাই মুসলমান সমাজ কখনো মেনে নেবে না।”
ধর্মীয় বিষয়ের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, “দেশের অর্থনীতি সচল রাখার মূল শক্তি হলো প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা। তারা দিনের পর দিন পরিশ্রম করছেন, আর দেশে এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ গোষ্ঠী সেই কষ্টার্জিত টাকা লুট করে বিদেশে সম্পদ পাচার করছে।”
তিনি বলেন, এসব দুর্নীতিবাজরা দেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়িতে’ পরিণত করেছে। লুটপাট, স্বজনপ্রীতি ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “দেশের মানুষ আর লুটেরা ও চাঁদাবাজদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না।”
গণজমায়াতে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানসহ শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা আবুল সরকারের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার ওপর জোর দেন।