বরিশালের বাবুগঞ্জে নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
রোববার এক বিবৃতিতে দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ব্যারিস্টার ফুয়াদ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অগ্রসেনানী, যার ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে আলো ছড়িয়েছে।
তিনি বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে তার বিদ্রোহী ভূমিকা জাতিকে পথ দেখিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পরে সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন নিয়ে তার অবস্থান অত্যন্ত ইতিবাচক ছিল। এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার ওপর হামলা শুধু নিন্দনীয় নয়, বরং রাজনৈতিক অঙ্গনে অশুভ ইঙ্গিত।”
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান মনে করেন, এই ঘটনা আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময়ে মতবিরোধ থাকতেই পারে। রাজনৈতিক সমালোচনা গণতন্ত্রের অংশ। কিন্তু সেই সমালোচনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় নেতাদের ওপর হামলা হলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে উৎসবমুখর পরিবেশের আশা ছিল, তা ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে।”
ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দাবি করে তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের পরে এমন নোংরা ও সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপি যদি সামান্য সমালোচনার জবাবে সহিংসতা দেখায়, তাহলে তারা এখনো অতীতের ফ্যাসিবাদের আচরণ থেকে শিক্ষা নিতে পারেনি।”
বিএনপির প্রতি সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইসলামী আন্দোলনের এ নেতা বলেন, “নিজেদের কর্মীদের পরমতসহিষ্ণু করে তুলুন। রাজনীতিতে যুক্তি থাকুক, সহিংসতা নয়। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে ভিন্নমতকে সম্মান করতে হয়।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল আচরণে ফিরে আসবে এবং জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হবে।