বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই আরও এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে ইন্ডিয়ান কালচার সেন্টারে আয়োজিত ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী দিবস ২০২৫ উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রণয় ভার্মা বলেন, বাংলাদেশের বিজয় দিবসের মাত্র ১০ দিন আগে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। সেই সময়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে ওঠে। তিনি উল্লেখ করেন, পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে এই সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
হাইকমিশনার বলেন, “আমরা কেউ একা সমৃদ্ধি আনতে পারবো না। তাই পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।” তিনি দুই দেশের জনগণের মধ্যে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, জনগণের সম্পর্ক যত ঘনিষ্ঠ হবে, রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ততই সুদৃঢ় হবে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে যে সহযোগিতা ও নৈতিক সমর্থন ভারত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে দিয়েছিল, সেই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশকে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতি হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, ভারত সেই যাত্রায় পাশে থাকতে চায়।
অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন। মৈত্রী দিবস উপলক্ষে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক বন্ধন ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রণয় ভার্মা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে অর্থনীতি, বাণিজ্য, সংযোগ, জ্বালানি নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ সব খাতে যৌথ অগ্রযাত্রা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।