বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মাথা নত করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি বলেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র আজ নতুনভাবে এগিয়ে যাচ্ছে—এমন মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে ঝিনাইদহের শৈলকূপা সরকারি কলেজ মাঠে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত বিশেষ দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। মাহফিলে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও মাদরাসার অসংখ্য শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় ব্যাপক নির্যাতন ও চাপের মুখে থাকা তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে নির্যাতনের ভয়াবহতার মধ্যেও খালেদা জিয়া দেশত্যাগের প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। দেশের স্বার্থ, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি দেশ ছাড়েননি। তার ভাষায়, “খালেদা জিয়ার সেই অবিচল অবস্থানই আজ বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের মহাসড়কে ফিরে আসার পথ দেখিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, একটি জাতির রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাহস ও নৈতিকতা জাতীয় ভবিষ্যৎকে বদলে দিতে পারে, আর খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।
ওয়ান-ইলেভেনের অস্থির রাজনৈতিক সংকটে যেখানে অনেকেই নিরাপত্তা ও সুবিধার জন্য দেশ ছেড়ে যাওয়ার পথ বেছে নিয়েছিলেন, সেখানে খালেদা জিয়া নিজের ও পরিবারের ওপর চাপ থাকা সত্ত্বেও দেশের মাটিতে থাকার সিদ্ধান্ত নেন—যা আজও জনগণের মনে গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে স্মরণীয়।
দোয়া মাহফিলে শৈলকূপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ স্থানীয় নেতারা অংশ নেন। তারা সবাই খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক স্থিতধী আচরণ ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রমাণ করে যে গণতন্ত্রের সংগ্রাম কখনো বৃথা যায় না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দেশনেত্রীর সুস্থতার পর বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক পথে অগ্রসর হবে।