সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিয়ে যেতে জার্মানি থেকে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় আসছে।
কাতার সরকারের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি পাঠানো হচ্ছে। জানা গেছে, শনিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে এটি ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। এরপর একই দিন সন্ধ্যায় বা রাতে খালেদা জিয়াকে নিয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হতে পারে।
কাতার সরকারের নিশ্চিতকরণ ঢাকায় কাতার দূতাবাসের জনসংযোগ কর্মকর্তা আসাদুর রহমান আসাদ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “কাতার সরকারের ব্যবস্থাপনায় জার্মানি থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকায় আসছে। শনিবার বিকেলে এটির ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।”
কূটনৈতিক সূত্র থেকে জানা যায়, জার্মানির একটি বেসরকারি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কোম্পানি ‘এফএআই রেন্ট এ জেট জিএমবিএইচ’-এর সিএল৬০ জেট বিমানটি (বোম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার ৬০০ সিরিজ) এই যাত্রার জন্য ব্যবহার করা হবে। বিমানটি ঢাকা থেকে সরাসরি জর্জিয়ার রাজধানী তিবলিসি হয়ে লন্ডনের উদ্দেশে উড্ডয়ন করবে।
বিএনপি নেতার বক্তব্য এই বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, “কাতার রাজপরিবারের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটিতে কিছু কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কাতার সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অন্য একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠাচ্ছে।”
তিনি আরও দাবি করেন যে, যদিও অ্যাম্বুলেন্সটি জার্মান কোম্পানির তৈরি, তবে এটি কাতার সরকারের পক্ষ থেকেই পাঠানো হচ্ছে। তার মতে, “কাতার জার্মানি থেকে অ্যাম্বুলেন্স পাঠাচ্ছে না।”
যাত্রা বিলম্ব এবং সর্বশেষ অবস্থা প্রাথমিকভাবে বিএনপি চেয়ারপার্সনকে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) ভোরে লন্ডনে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কারিগরি সমস্যার কারণে কাতারের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি নির্ধারিত সময়ে আসতে পারেনি।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ সকালে জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের আগমন একদিন পিছিয়ে শনিবার হচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, “ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা যদি যাত্রার উপযুক্ত থাকে এবং মেডিকেল বোর্ড যদি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ ৭ তারিখ (রোববার) তিনি ফ্লাই করবেন।”
উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর রাতে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিলে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় তার ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার ভোরের দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের এসডিইউ থেকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।