আতিকুর রহমান, রাবি প্রতিনিধি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দ্বাদশ সমাবর্তন আগামী ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সমাবর্তনের আয়োজন হলেও দিনক্ষণ নির্ধারণ, অতিথি নির্বাচন এবং রেজিস্ট্রেশনের সময় না বাড়ানো—এসব বিষয়ে সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নানা বিতর্কের মাঝেই অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
রাবির ৭২ বছরের ইতিহাসে মাত্র ১১টি সমাবর্তন হয়েছে। ২০১৯ সালের পর এটি প্রথম সমাবর্তন হলেও ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বহুবার তারিখ ঘোষণা করে আবার স্থগিত করা হয়। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারির তারিখও হঠাৎ বাতিল হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত ও হতাশ হয়েছেন।
দ্বাদশ সমাবর্তনের জন্য রেজিস্ট্রেশন করা সাবেক শিক্ষার্থী আলী ইউনুস হৃদয় বলেন,
“অনেকেই চাকরির প্রস্তুতি বা আর্থিক সংকটের কারণে সময়মতো রেজিস্ট্রেশন করতে পারেনি। সবাই ভেবেছিল রাবি হয়তো রেজিস্ট্রেশনের সময় বাড়াবে। কিন্তু হঠাৎই জানা গেল, সুযোগ আর বাড়ছে না। এতে অনেকেরই অংশগ্রহণের স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেল।
পাঁচ বছর অপেক্ষার পর যে সমাবর্তন, সেটাকে স্মরণীয় করার জন্য অতিথি নির্বাচন আরও গুরুত্ব দিয়ে করা যেত। আমরা আরও অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব আশা করেছিলাম।”
সাবেক শিক্ষার্থী সারমিন বন্ধন জানান,
“আমাদের দাবির বিষয়ে প্রশাসনের কোনো গুরুত্বই নেই। পুরো ব্যাপারটাই ডোন্ট কেয়ার ভাব।ফেসবুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’সহ বিভিন্ন গ্রুপে সমাবর্তন নিয়ে অসংখ্য পোস্ট দেখা যাচ্ছে।”
সাবেক শিক্ষার্থী মো. রেজাউল করিম লেখেন
এটা কি সত্যিই সমাবর্তন, নাকি প্রশাসনের দায়িত্ব শেষ করার অনুষ্ঠান? অফ ডে না দেখে তারিখ দেওয়া, অতিথি বাছাই—সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে সাবেক শিক্ষার্থীরা আর গুরুত্ব পাওয়ার মতো কেউ নয়। এক বছর পিছিয়ে নিলেই বা ক্ষতি কী ছিল? অন্তত সাবেক শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কিছু হতো।
রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার নিজের ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, “সাবেক ভাইবোনেরা আমাকে মেনশন করে জানতে চাইছেন, রাকসু থাকতে এমন দায়সারা আয়োজন কীভাবে হয়? প্রশাসন রাকসুর মতামতকে কতটা গুরুত্ব দেয়, এ আয়োজনেই তা স্পষ্ট।
যাদের অতিথি করা হয়েছে, তারা শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার মতো কেউ নন। চাইলে সাবেকরা একযোগে সমাবর্তন বর্জন করে টাকা ফেরতের দাবি তুলতে পারেন। প্রয়োজনে আলাদা ‘ছায়া সমাবর্তন’ও আয়োজন করা যেতে পারে।”
সমালোচনার পর রাবির উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. ফরিদ উদ্দিন খান জানান, সমাবর্তন নির্ধারিত তারিখেই হবে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাঁরা উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তাই শিক্ষা উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
আমরা বৃহস্পতিবার বা রবিবার চেয়েছিলাম, কিন্তু অতিথিদের সময় না মেলায় বুধবার ঠিক করতে হয়েছে। এতে চাকরিজীবী গ্র্যাজুয়েটরা কিছুটা অসুবিধায় পড়বেন—এর জন্য আমরা দুঃখিত। টেকনিক্যাল কারণে রেজিস্ট্রেশনের সময় বাড়ানো সম্ভব হয়নি। যারা অংশ নিতে পারেননি, তাদের কাছে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।