হিন্দু অধ্যুষিত খুলনা–১ আসনে (বটিয়াঘাটা–দাকোপ) প্রার্থী পরিবর্তন করেছে জামায়াতে ইসলামি। নতুন মনোনয়ন পেয়েছেন ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি ও জামায়াতের হিন্দু সম্প্রদায়ের শীর্ষ সংগঠক কৃষ্ণ নন্দী।
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর বুধবার স্থানীয় বোর্ডে তাঁর প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে বহাল করা হয়। আগামী শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বটিয়াঘাটা উপজেলা সদরের জামায়াত কার্যালয়ে প্রার্থী পরিচিতি সভা শেষে প্রথমবারের মতো গণসংযোগে নামবেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আমার দেশ-এর সঙ্গে আলাপকালে কৃষ্ণ নন্দী বলেন, “শুক্রবার বিকেল থেকেই ভোটের প্রচারণা শুরু করবো। বটিয়াঘাটা থেকে গণসংযোগের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম শুরু হবে। সেখানে একটি পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হবে, এরপরই জনগণের কাছে ভোট চাইতে মাঠে নামবো।”
তিনি আরও জানান, গত ১ ডিসেম্বর জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান খুলনায় ৮ দলের বিভাগীয় সমাবেশে অংশ নিতে এলে তাঁকে ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বুকে বুক মিলিয়ে সমর্থন জানান। একই সঙ্গে বটিয়াঘাটা জামায়াতের আমীরকে প্রচারণার পূর্ণ দায়িত্ব দেন। তাঁর নেতৃত্বেই নির্বাচনী মাঠে সংগঠনটি সক্রিয় হবে বলে জানান কৃষ্ণ নন্দী।
জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা এমরান হোসাইন বলেন, কেন্দ্রীয় আমিরের নির্দেশে খুলনা–১ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। স্থানীয় পর্যায়ের বৈঠকে সেই সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে।
এর আগে ঘোষিত প্রার্থী মাওলানা আবু ইউসুফ জানান, “সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কৃষ্ণ নন্দীর পক্ষেই আমি প্রচারণা চালাচ্ছি। আমাকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক করা হয়েছে, তাই দলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবো।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি খুলনার ছয়টি আসনে জামায়াত প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। প্রায় ১০ মাস পর প্রার্থী পরিবর্তন করে এই আসনে প্রথমবারের মতো এক হিন্দু প্রার্থীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেওয়া হলো।
খুলনা–১ আসনটি বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলা নিয়ে গঠিত। সর্বশেষ ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার ৩ লাখ ৩ হাজার ৫৪২ জন। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এ আসনে হিন্দু ভোটার রয়েছে ৪০ থেকে ৪২ শতাংশ। ডুমুরিয়ার বাসিন্দা কৃষ্ণ নন্দী পূর্বে খুলনা–৫ আসনে বিভিন্ন সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে তরুণ ভোটারদের আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। এবার তাঁকেই যেতে হচ্ছে খুলনা–১ আসনের ভোটারদের দ্বারে নিজের জন্য ভোট চাইতে।