নুর মোহাম্মদ, কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়িতে উঠে এসেছে এক বিশাল প্লাস্টিক দানব। সেই প্লাস্টিক দানব দেখতে সমুদ্র সৈকতের আসা পর্যটকরা ভীড় করছেন। আসলে এই ভাস্কর্য তৈরি করা হয়েছে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূল থেকে সংগ্রহ করা পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে। এই দানব তৈরির উদ্দেশ্য-প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন করার জন্য।
সমুদ্রের বুকে জমতে থাকা প্লাস্টিক যেন রূপ নিয়েছে এক দানবে। ঠিক সেই বাস্তবতার প্রতীক হিসেবেই কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়িতে দেখা মিলছে ১০ মেট্রিক টন বর্জ্য দিয়ে তৈরি এই বিশাল ভাস্কর্যের।
সমুদ্র থেকে উঠে আসা দানবের এই রূপক ভাস্কর্য যেন আঘাত করছে অসচেতনতার ওপরই। পৃথিবী ফেটে বেরিয়ে আসছে প্লাস্টিক-বার্তা একটাই, প্রকৃতি আর নিতে পারছে না বর্জ্য। এক বুক প্লাস্টিক নিয়ে পৃথিবী এখন দাঁড়িয়ে আছে মৃত্যুর দারপ্রান্তে।
প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধ কর্মসূচির সমন্বয়ক মুহাম্মদ মোবারক এর সাথে কথা বলে জানা যায়, সমুদ্র থেকে উঠে আসা প্লাস্টিকের এই দানব আজ আমাদের পুরো পৃথিবীকে হুমকির মুখে ফেলেছে। পৃথিবীর স্থলভাগে মানুষ থেকে শুরু করে নানান প্রজাতির প্রাণী-সবাইই প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতির শিকার হচ্ছে। আমরা মূলত সেই বিপদের ব্যাপ্তি ও ভয়াবহতাই মানুষকে বোঝাতে চাই। এবার আমরা যে ভাস্কর্যটি তৈরি করেছি তার উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট। আর এটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ১০ মেট্রিক টন প্লাস্টিক।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্লাস্টিক দিয়ে দানবটি তৈরি করেছে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের একদল শিল্পী। এতে তারা প্লাস্টিক বর্জ্যের পাশাপাশি ব্যবহার করেছেন বাঁশ-কাঠ, পেরেক ও আঁটাসহ আরও কয়েকটি উপকরণ। এটির উচ্চতা ৪৫ ফুট। ১৫ দিনে এটি বানাতে কাজ করেছেন ৫ জন শিল্পীসহ ১২ জন।
বর্তমানে কক্সবাজারে পর্যটন মৌসুম চলছে, আর এই মৌসুমে কক্সবাজারে প্রতিদিন ভিড় করছেন হাজারো পর্যটক। অনেকে প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন কিংবা খাবারের প্যাকেট রেখে যান সৈকতে। সেগুলোই শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ছে সমুদ্রে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। এ জন্য প্রাণপ্রকৃতির দূষণরোধে সচেতনতা সৃষ্টিতে নির্মিত হয়েছে এই ভাস্কর্যটি। পর্যটকরা ভাস্কর্যের সঙ্গে সেলফি, ভিড়িও করার পাশাপাশি হচ্ছেন সচেতনও।