বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের চিকিৎসা খাতে যেমন সৎ ও নৈতিক চিকিৎসক আছেন, তেমনি একশ্রেণির চিকিৎসক অনৈতিক সুবিধার কাছে নিজেদের সমর্পণ করেছেন। ওষুধ কোম্পানির প্রভাবে চিকিৎসা সেবায় অনিয়মের যে অভিযোগ রয়েছে, তা অস্বীকার করা যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শেওড়াপাড়ার মেহফিল কনভেনশন হলে ঢাকা-১৫ আসনের ওষুধ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, একশ্রেণির ওষুধ কোম্পানি চিকিৎসকদের পিছনে অহেতুক বিনিয়োগ করে, আর কিছু চিকিৎসক সেই সুযোগ নিয়ে কোম্পানির অনুকূলে প্রেসক্রিপশন দেন। এতে এরা আর্থিকভাবে লাভবান হলেও সাধারণ রোগীরা ধোঁকার শিকার হন। নীতি-নৈতিকতার বাইরে গিয়ে যারা এসব করছেন, তারা দুনিয়ার মোহে হালাল-হারামের সীমা ভুলে যাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বিদেশি কোম্পানিনির্ভর ছিল। কিন্তু এখন দেশীয় ওষুধ শিল্প উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বর্তমানে ৩৮টি দেশে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ রপ্তানি করা হচ্ছে—এটি বাংলাদেশের বড় অর্জন। এই অর্জনকে আরও এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে বলেও তিনি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “আমাদের দেশের কিছু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—তারা কমিশনের আশায় অপ্রয়োজনীয় ওষুধ লেখেন, অতিরিক্ত পরীক্ষা দেয়। এটি রোগীর ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করে। আর চিকিৎসকরা যদি দুনিয়াবী স্বার্থে এমন কাজ করেন, তবে আদালতে বা আখিরাতে এসব কোম্পানি তাদের পক্ষে থাকবে না।”
সবশেষে ভালো মানুষ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বিবেকবিরুদ্ধ কোনো কাজ করা উচিত নয়। “দুনিয়াতে বাহবা না পেলেও, ভালো হলে আল্লাহর পক্ষ থেকে মহাপুরস্কার রয়েছে”—এ কথা উল্লেখ করে তিনি চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সবাইকে সৎ, নৈতিক এবং আল্লাহভীরু হওয়ার আহ্বান জানান।