রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। তার উন্নত চিকিৎসায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল বাংলাদেশে আসছে বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, খালেদা জিয়ার বর্তমান জটিল শারীরিক পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রতিটি চিকিৎসা ধাপ অত্যন্ত সতর্কতা ও মনোযোগের সাথে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
ডা. জাহিদ জানান, খালেদা জিয়া গত ২৭ নভেম্বর থেকে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন, এবং যেসব চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে—তিনি তা গ্রহণও করতে পারছেন। তিনি বলেন, “তারেক রহমান সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসার খোঁজ রাখছেন। প্রধান উপদেষ্টা, সরকার, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সর্বোচ্চ সহায়তা দিচ্ছেন।”
তিনি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “দেশনেত্রীর স্বাস্থ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো অনাকাঙ্ক্ষিত। দলের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে—অফিসিয়াল তথ্য ছাড়া অন্য কারো বক্তব্য প্রচার না করতে।”
ডা. জাহিদ আরও বলেন, “আল্লাহর রহমতে, সবার দোয়া এবং সার্বিক সহযোগিতায় হয়তো এবার আমরা তাকে আবারও আমাদের মাঝে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাবো। এ জন্য দেশবাসীর দোয়া প্রয়োজন।”
সাংবাদিকরা খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। মেডিকেল বোর্ড পরামর্শ দিলেই তাকে বিদেশে নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, ৮০ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগ, লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ বহু শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে তার চিকিৎসা চলছে।