বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থার মধ্যে তাঁর পাশে না থাকতে পারায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ‘বাধা’ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
তিনি বলেন, “যে কারণেই হোক, তারেক রহমান এখনই মায়ের কাছে আসতে পারছেন না। তবে আমরা খালেদা জিয়ার জন্য যা করার দরকার, সবই করবো। তাঁকে কখনোই বুঝতে দেবো না যে দেশে তাঁর সন্তান নেই।”
শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় মির্জা আব্বাস অভিযোগ করে বলেন, কারাগারে থাকার সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে অপচিকিৎসা করা হয়েছিল, যার ফল আজ দেশকে দেখতে হচ্ছে।
নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নির্বাচন সামনে। একযোগে মাঠে নামতে হবে। বিএনপি ও খালেদা জিয়ার হাতে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিরাপদ।” তিনি দাবি করেন, ১৭ বছর পর দেশে গণতন্ত্রের যে সামান্য আলোর দেখা মিলছে, সেটিকে নস্যাৎ করতে একটি মহল নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে বিভ্রান্তি তৈরির জন্য একটি চক্র ধর্মকে ব্যবহার করছে। পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণের নামে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে তারা দেশের মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করতে চাইছে।
মির্জা আব্বাস বলেন, “আমরা সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছি। কিন্তু যারা মন্দিরে গিয়ে গীতাপাঠ করে রাজনৈতিক নাটক দেখায়, তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।” তিনি জামায়াত আমিরকে ইঙ্গিত করে বলেন, “ওনার জ্ঞান-বুদ্ধি থাকতে পারে, কিন্তু দেশপ্রেম আছে কিনা সন্দেহ আছে।”
তিনি বলেন, “সমস্ত রাক্ষসদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার সময় এসেছে। দেশের মানুষ খালেদা জিয়ার জন্য কাঁদছে। আমরা বিশ্বাস করি—তিনি আবারও আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন।”