বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ঘিরে একটি বিস্তৃত বিশ্লেষণমূলক পোস্ট দিয়েছেন। ফেসবুকে প্রকাশিত তাঁর বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়ার অবদান, খালেদা জিয়ার চরিত্র এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির অবস্থান নিয়ে সরব সমালোচনা তুলে ধরেন।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, শহীদ জিয়ার প্রতি তাঁর মুগ্ধতার তিনটি কারণ— জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রশ্নে দূরদর্শী কৌশল। তিনি মনে করেন, জিয়ার এই তিনটি সিদ্ধান্তই আজও রাষ্ট্র পরিচালনায় শিক্ষণীয় উদাহরণ।
খালেদা জিয়াকে নিয়ে তিনি লেখেন— শৈশব থেকেই দু’জন নেত্রীকে দেখেছেন: বেগম জিয়া ও শেখ হাসিনা। তাঁর মতে, বেগম জিয়ার সবচেয়ে বড় গুণ ছিল ‘নম্রতা বা সফটনেস’, যা ফ্যাসিবাদী আচরণকারী শেখ হাসিনার বিপরীত চরিত্রের প্রতিচ্ছবি। জাহিদুল বলেন, বেগম জিয়া কখনোই আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করেননি; বরং দীর্ঘ দেড় যুগ কারাবাস, নির্যাতন ও জুলুম সহ্য করেও আপস করেননি।
তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে তিনি মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, অতীতে তারেক রহমানের প্রতি তাঁর আশাবাদ ছিল যে, ৩৬ জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর তিনি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করবেন। কিন্তু বিএনপির বর্তমান নীতি—বিশেষত জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি—তাঁর মতে শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, “বিএনপি ঠিক কার ইশারায় বিভাজনের পুরনো রাজনীতিতে ডুব দিলো, তা বোধগম্য নয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি নিজেদের বাইরে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলকে গুরুত্ব দিতে চায় না, যা নতুন প্রজন্মের কাছে অগ্রহণযোগ্য। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন যে, শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হলে বিএনপি টিকে থাকতে পারবে না।
শেষে তিনি প্রার্থনা করেন, বেগম জিয়া দ্রুত সুস্থ হয়ে জাতির সামনে ফিরে আসুন এবং তারেক রহমান নিজের স্বকীয়তায় রাজনীতি পরিচালনা করুন—এই প্রত্যাশা দেশপ্রেমিক মহলের।