ক্ষমতায় গেলে নাগরিকদের আর আন্দোলনে নামতে হবে না, বরং সরকারই দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেবে—এ কথা বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (৩০ নভেম্বর) রাজধানীতে এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত দশকে সরকার জনগণকে বহু আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন খুব কম হয়েছে। “আমরা আশ্বাস নয়, কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চাই,” মন্তব্য করেন তিনি। একই ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ হিসেবে জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
রাজনীতির দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, দেশের মানুষ মূলত ভালো, কিন্তু কিছু খারাপ রাজনীতিবিদের কারণে রাষ্ট্র কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে পিছিয়ে থাকে। “আমরা মূল ধরে টান দেব,”—উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভালো রাজনীতি ছাড়া দেশের সম্ভাবনা বাস্তবায়ন অসম্ভব।
শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়েও কথা বলেন তিনি। বর্তমানে মানসম্মত শিক্ষা নেই দাবি করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা কী পড়বে তা মা–বাবা নয়, শিক্ষকরা নির্ধারণ করবেন। শিশুদের দক্ষ, নৈতিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দেশে এখন ‘জাস্টিস’ বা ন্যায়বিচার পেতে টাকা লাগে—এ দুর্নীতিগ্রস্ত প্রক্রিয়ার পরিবর্তন আনতে হবে। যদি জামায়াত সরকারে আসে, তাহলে কোনো দাবিদাওয়া নিয়ে মন্ত্রণালয়ের দরজায় দরজায় ঘুরতে হবে না; বরং রাষ্ট্র নিজেই মানুষের সেবা পৌঁছে দেবে।
তিনি জানান, সরকারে না গেলেও জামায়াত তাদের নিজস্ব অর্থায়নে ১০০টি ক্লিনিকে সোলার প্যানেল স্থাপন করবে। দেশের মানুষের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা তাদের অঙ্গীকার।
জামায়াত আমিরের ভাষণে স্পষ্ট—তাদের রাজনৈতিক ব্রত হলো নাগরিক সেবাকে কেন্দ্রীভূত না রেখে দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং জনগণের ওপর আন্দোলনের বোঝা কমানো।