নুর মোহাম্মদ, কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারে ইয়াবা উদ্ধার করে মামলায় কম দেখানো ও আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের কক্সবাজার-বান্দরবানের র্যাব-১৫-এর বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত তদন্তের মধ্যেই ইউনিটটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানসহ তিন শতাধিক সদস্যকে একযোগে নজিরবিহীন গণবদলি করা হয়েছে।
র্যাব এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নিয়মিত বদলি’ বললেও একাধিক সূত্রের তথ্য বলছে, দুটি বিতর্কিত অভিযানের প্রেক্ষিতে সদর দপ্তরের অনুসন্ধানের ভিত্তিতেই এই ‘গণবদলি’ বাস্তবায়ন হয়েছে।
র্যাব সদর দপ্তরের প্রশাসন-অর্থ শাখার অনুমোদনের ভিত্তিতে ১৯ নভেম্বর দুটি প্রজ্ঞাপনে ১৯৮ ও ২০০ জন সদস্যকে বদলি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার আরও ৭৪ জনকে বদলি করা হয়। তিন দফায় বদলিকৃতদের বড় একটি অংশই র্যাব-১৫ এ কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেকাব চৌধুরী একাধিক গণমাধ্যমকে জানান, এক বছর চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় র্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এটি নিয়মিত বদলির অংশ।
নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নেয়ামুল হালিম খান, যিনি করোনাকালে যশোর সেনানিবাসে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের ৩৭ বীর-এর অধিনায়ক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং পশ্চিম পাড়ায় র্যাব অভিযান চালিয়ে দুই নারীকে ৮৯ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবাসহ আটক দেখায়। নগদ ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৮৩০ টাকা উদ্ধারের কথাও বলা হয়। মামলায় যুবদল নেতা হেলাল উদ্দিনসহ আটজনকে পলাতক দেখানো হয়।
এজাহারে তথ্যভ্রষ্টির অভিযোগ উঠেছে, যার মধ্যে অন্যতম স্থানীয় সাংবাদ কর্মী সেলিম উদ্দিনকে ফাঁসানোর চেষ্টা। সেলিমের দাবি, এক মাদককারবারিকে রক্ষার জন্য ‘নামের মিল’কে কাজে লাগানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ইয়াবা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
নভেম্বরের শুরুতে র্যাব সদর দপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল সরেজমিনে এসে পরিদর্শন করে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় এক যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, কয়েকদিন আগে র্যাবের কয়েকজন সদস্য তদন্তে এসেছিলেন। তারা সেলিম ও হেলালের খোঁজ নিয়েছিলেন। স্থানীয়দের মতে, সেলিম নামে দুইজন আছেন- একজন ইয়াবা কারবারি সাথে জড়িত এবং এলাকায় তার সুনাম আছে, অপরজন সাংবাদিক, যাদের বিরুদ্ধে কখনও কোনো খারাপ অভিযোগ শুনা যায়নি।
তথ্য বলছে, আরও একটি বিতর্কিত অভিযানটি হয় ২৬ সেপ্টেম্বর হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকায়। ডজন মামলার আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার দেখায় র্যাব-১৫। তবে জব্দতালিকায় মাত্র ৭টি ইটের টুকরা ও ২টি কাঠের লাঠি দেখানো হয়-যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন ও সমালোচনার জন্ম দেয়।
দুই অভিযানেরই নেতৃত্বে ছিলেন তখনকার অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান। তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত টেকনাফ এফএস কমান্ডার কর্পোরাল ইমামকেও এসব অভিযানের নেপথ্যের ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করছেন র্যাবের একাধিক সূত্র।
র্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে ইয়াবা ঘটনায় জড়িত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ প্রসঙ্গে মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেকাব চৌধুরী বলেন গণমাধ্যমে বলেন, যদি কেউ অপরাধে জড়িত থাকে, অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। র্যাব তদন্তের মাধ্যমে যারা জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনায় যারা দায়ী তাদের শাস্তি পেতে হবে।