বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাকে দেখতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষ হাসপাতালের সামনে ছুটে আসছেন। দলের কেন্দ্রীয়ভাবে ভিড় না করার অনুরোধ থাকলেও সেই নির্দেশনা কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে। বরং সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের সামনে মানুষের উপস্থিতি আরও বেড়েই চলেছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “দেশনেত্রীর প্রতি মানুষের সীমাহীন ভালোবাসা থেকেই এ সমাগম তৈরি হয়েছে। কিন্তু এতে হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। দেশনেত্রীসহ অন্য রোগীদের সেবায় যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সে জন্য সবাইকে ভিড় না করার অনুরোধ জানিয়েছি।”
তার অনুরোধ সত্ত্বেও দিন যত গড়াচ্ছে, এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে মানুষের ভিড় ততই বেড়ে চলেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীরা এসে ভিড় করছেন—যার ফলে হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জরুরি রোগী পরিবহনে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এদিকে সাংবাদিকদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। হাসপাতালের কার্যক্রম কাভার করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা ভিড়ের ধাক্কা, সীমিত প্রবেশাধিকার এবং যানজটে নানান বিড়ম্বনার মুখে পড়ছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে মাঠে থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না। পুলিশ বলছে, মানুষকে জোর করে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, কারণ সবাই খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর আবেগ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে হাসপাতালের সামনে অবস্থান করছেন।
চিকিৎসকদের মতে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। তাই হাসপাতাল ও আশপাশের পরিবেশ শান্ত রাখা জরুরি। কিন্তু নেতাকর্মীদের ক্রমাগত সমাগম পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশনেত্রীর রোগমুক্তির জন্য মানুষ যেভাবে দোয়া করছে, তা নজিরবিহীন—তবে দলীয় নেতাদের অনুরোধ, এই দোয়া ঘরে বা মসজিদে করাই উত্তম, যাতে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত না হয়।