মহান আল্লাহ, পবিত্র কোরআন ও ইসলাম নিয়ে বাউল আবুল সরকারের চরম কটূক্তির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর পল্টন জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক তৌহিদী জনতা অংশ নেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। তিনি বলেন, “আবুল সরকার যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে, তা কোনো মুসলমান মেনে নিতে পারে না। এটি শুধু ধর্ম অবমাননা নয়—বরং মুসলমানদের ঈমানের ওপর প্রকাশ্য আঘাত। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
আন্দোলন সফল করতে তিনি তৌহিদী জনতাকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, “ধর্মদ্রোহিতা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। দোষীদের রক্ষায় যারা মাঠে নেমেছে, তারাও মনে রাখুক—এই দেশের মুসলমানরা নীরব থাকবে না।”
জোনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতি জুবায়ের রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি জাবের কাসেমীসহ অন্যান্য নেতারা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, যারা আবুল সরকারকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, কিংবা তৌহিদী জনতার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে, তাদেরই প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার ও আবুল সরকারের বিচার না হলে দেশের ঈমানদার জনতা রাজপথে নামবে, প্রয়োজনে দেশ অচল করে দেওয়া হবে।
হেফাজত নেতারা আরও বলেন, “ধর্মদ্রোহীদের রক্ষা করা মানেই ইসলামবিদ্বেষীদের সাহস যোগানো। মুসলমানরা তা কখনো মেনে নেবে না। ইনশাআল্লাহ, সময়মতো এই জাতি উপযুক্ত জবাব দিতে জানে।”
সমাবেশ শেষে হেফাজত নেতাদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল পল্টন মোড় হয়ে বিজয়নগর পানির ট্যাংকি পর্যন্ত গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।