ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এখনও তিনি বাংলাদেশের ভোটার নন। দলের একাধিক সূত্র জানায়, চাইলে লন্ডনে বসেই তিনি ভোটার হতে পারতেন; তবে সে পথে না গিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যভাগে দেশে ফিরে সরাসরি উপস্থিত হয়ে ভোটার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, তারেক রহমান বিদেশে ভোটার হয়েছেন কিনা, কমিশনের কাছে তথ্য নেই। তবে প্রাপ্তবয়স্ক কেউ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়লে যেকোনো সময় আবেদন করে আবার অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হয়েছে তারা চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত হলেও, বাদ পড়া আগের ভোটারদের জন্য ‘সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট’-এর সুযোগ রয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিতে হলে মনোনয়ন দাখিলের আগেই ভোটার হতে হবে—এটিও কমিশনের পরিষ্কার ব্যাখ্যা।
দলীয় সূত্র বলছে, ২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরির সময় তারেক ও তাঁর স্ত্রী জোবাইদা রহমান লন্ডনে থাকায় তারা ভোটার হননি। সম্প্রতি দেশে ফিরে জোবাইদা রহমান ভোটার হয়েছেন, তবে তারেক রহমান এখনও আবেদন করেননি। দেশে ফিরেই তিনি প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর, আঙুলের ছাপ ও আইরিশ স্ক্যান সম্পন্ন করে ভোটার হবেন।
তার দেশে ফেরা নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। ডিসেম্বরের শুরুতেই নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর মধ্য ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফিরবেন বলে দলীয় সূত্রের ধারণা। ফেরার আগে তাঁর ওমরাহ পালন করার কথাও জানা গেছে। নিরাপত্তার জন্য দলীয়ভাবে একটি বিশেষ টিম প্রস্তুত করা হয়েছে, পাশাপাশি দুটি বুলেটপ্রুফ বাস ও গাড়িও আনা হয়েছে বলে জানা যায়।
ফিরে তিনি গুলশান-২ এ অবস্থিত ১৯৬ নম্বর বাড়িতে উঠবেন, যার নামজারি সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে। এটি আগে ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকোর কাছে ভাড়া ছিল। এখন বাড়িটিতে তাঁর থাকার উপযোগী সাজসজ্জা, সিসিটিভি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাজ শেষ হয়েছে। গুলশান কার্যালয়ের একটি কক্ষ ইতোমধ্যে তাঁর অফিস হিসেবে প্রস্তুত।
দলীয় নেতারা মনে করেন, যেদিন তারেক রহমান দেশে ফিরবেন, সেদিন লাখো নেতাকর্মী ঢাকায় জমায়েত হবেন। দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডন প্রবাসের পর তাঁর এই প্রত্যাবর্তন বিএনপির নির্বাচনী প্রচারের সবচেয়ে বড় উদ্দীপনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।