সুনামগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির নির্বাচিত হলে কোনো ধরনের সরকারি সুযোগ–সুবিধা গ্রহণ করবেন না বলে অঙ্গীকার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ঘোষণায় তিনি ভোটারদের উদ্দেশে নিজের এই প্রতিশ্রুতি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেন।
সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী বলেন, “যদি আপনাদের দোয়া ও আল্লাহ তায়ালার কৃপায় আগামী নির্বাচনে জয়ী হতে পারি, ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমি কখনো সরকারি কোনো বেনিফিট গ্রহণ করব না। সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ভাতা, অ্যালাউন্স বা অন্যান্য সুবিধা—সবই জনগণের কল্যাণে উন্মুক্ত করে দেব। এর এক পয়সাও আমি বা আমার পরিবার ব্যবহার করব না।”
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি শিশির মনির আরও জানান, সংসদ সদস্যরা যেসব ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন, তিনি সেই সুবিধাও নেবেন না। তার ভাষায়, “এ সুযোগ আমার থাকলেও আমি গ্রহণ করব না। ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রশাসন ব্যবহার করব না। সরকারি কাজ ছাড়া কোনো প্রটোকলও গ্রহণ করব না।”
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ঢাকায় হোক বা সুনামগঞ্জে—তার দরজা সর্বদা জনগণের জন্য খোলা থাকবে। তার পরিবার বা আত্মীয়-স্বজনদের কোনো প্রকার অবৈধ প্রভাব বিস্তার থেকে বিরত রাখতে কঠোর অবস্থান নেবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিশির মনির বলেন, “আমি যদি এই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাই, জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকব। সরকারি ফান্ডের প্রতিটি টাকার হিসাব জনগণের কাছে উপস্থাপন করব।”
তার এই ঘোষণা নির্বাচনী এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বিষয়টিকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নীতিনিষ্ঠ রাজনীতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় যখন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন একজন প্রার্থীর স্বেচ্ছায় সরকারি সুবিধা ত্যাগের অঙ্গীকার ভোটারদের মধ্যে ভরসা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।