বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাতি হিসেবে আমরা এখনো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারিনি। এখনো তর্ক হচ্ছে, ঝগড়া হচ্ছে—তবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সংস্কারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক শক্তিগুলো অন্তত এক হতে পেরেছে। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাতে রুহুল আমিন স্মৃতি মিলনায়তনে ঠাকুরগাঁও জেলা ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রে মতবিরোধ থাকবে, তর্কও থাকবে। কিন্তু সংস্কারের বেশ কিছু বিষয়ে তারা ইতোমধ্যে একমত হতে পেরেছেন, এবং আরও কিছু বিষয় ভবিষ্যতে সংসদে উঠবে। তিনি বলেন, “আমরা যদি ক্ষমতায় যেতে পারি, পার্লামেন্টে যেতে পারি, তাহলে সব সংস্কারই করা হবে।”
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, তারা কখনোই রাজনীতিকে ব্যক্তিগত লাভ বা সম্পদ বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেননি। বরং রাজনীতি করতে গিয়ে অনেক সময় সম্পদ বিসর্জন দিতে হয়েছে। তার ভাষায়, “আমরা রাজনীতিকে ব্যবসা হিসেবে ব্যবহার করিনি। রাজনীতি করেছি মানুষের কল্যাণে, দেশের উন্নয়নের জন্য। আমরা নতুন বাড়ি তৈরি করিনি, বরং রাজনীতি করতে গিয়ে বাড়ি বিক্রি করেছি।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর বার্তা বা উত্তেজনাকর স্লোগানের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, “আমরা ভালোটা গ্রহণ করবো, খারাপটা বর্জন করবো। অনেকেই বলে—জালিয়ে দাও, গুঁড়িয়ে দাও। এগুলো করা যাবে না।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশে আর ফ্যাসিবাদী সরকার দেখতে চান না। “আমরা হাসিনার মত কোনো সরকারকে ফিরিয়ে আনতে চাই না। সামনে একটি সুযোগ এসেছে—গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার গঠন করে সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে চাই।”
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মুরাদ হোসেন, জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী, দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ফরিদুল ইসলাম, চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মাহমুদ হাসান রাজু ও বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি হাবিবুল ইসলাম বাবলু।