মোঃআতেফ ভূঁইয়া গাজীপুর সদর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের মেধাবী তরুণ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যাকাণ্ডের মামলায় অবশেষে চার্জ গঠন সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) কেটু মিজান ও তার স্ত্রী গোলাপিসহ সকল আসামিকে আদালতে হাজির করার পর বিচারক চার্জ গঠন করেন।
অন্যদিকে মাত্র ৬ দিন পর, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে—যা নিহত তুহিনের পরিবার, সহকর্মী ও পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দিন।
নিহত তুহিনের আইনজীবী প্রশান্ত চন্দ্র সরকার বলেন,আজ চার্জ গঠন সম্পন্ন হলো। মাত্র ছয় দিন পর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। আমরা চাই দ্রুত বিচার আদালতে স্থানান্তর হোক, সেজন্য আবেদন করা হয়েছে।
তবে এখনো আইন মন্ত্রণালয় থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।তুহিনের ভাই ও মামলার বাদী সেলিম হতাশ কণ্ঠে জানান—তিন মাস আগে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার আবেদন করেছি, কিন্তু এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেই। এ দেরি আমাদের কষ্ট আরও বাড়াচ্ছে।
দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর সম্পাদক এবং সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন,তিন মাস ধরে আমরা আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সিদ্ধান্ত না আসায় আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠালে ৯০ দিনের মধ্যেই বিচার শেষ করা সম্ভব।
এদিকে মামলার ধীর গতিতে দেশজুড়ে সাংবাদিক সমাজে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। সহকর্মীরা বলছেন—
সাংবাদিক তুহিনের রক্ত যেন বৃথা না যায়। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সাংবাদিক সমাজ মনে করেন—তুহিন হত্যার বিচার হলে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ইতিহাসে এটি হবে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়—যেখানে ন্যায়, সত্য ও সাহসের জয় প্রতিষ্ঠিত হবে।
সাংবাদিক তুহিনের মৃত্যু শুধু এক পরিবারের নয়—একটি পেশার, একটি সমাজের ব্যথা। বিচার দ্রুত না হলে এই বেদনা আরও গভীর হবে—এটাই সকল সাংবাদিকের আকুতি।
উল্লেখ্য গত আগষ্টের ৭ তারিখে দিবালোকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে কেটু মিজানের নেতৃত্বে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।তার পর থেকে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমাজ তুহিনের নৃশংস হত্যার বিচার চেয়ে সারা দেশে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেন।