বাউল শিল্পী আবুল সরকারের বিতর্কিত বক্তব্যকে ঘিরে দেশজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খান বলেছেন—আবুল সরকারের মুক্তি নয়, বরং তার কঠোর শাস্তিই হওয়া উচিত। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বাউলের বক্তব্য তিনি শুনেছেন এবং তা সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলেই মনে হয়েছে।
রাশেদ খান লিখেছেন, একজন শিল্পী হিসেবে আবুল সরকারের শিল্পচর্চায় বাধা নেই, কিন্তু ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করার অধিকার তার কখনোই নেই। “আপনি আল্লাহ, ইসলাম বা অন্য কোনো ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করতে পারবেন না। এমনকি হিন্দু ধর্ম ও হিন্দুধর্মাবলম্বীদের নিয়েও কোনো কটূক্তি গ্রহণযোগ্য নয়”—এভাবে কঠোর মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যারা বাউল আবুল সরকারের মুক্তির দাবি তুলছেন, তারা যেন আগে তার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তার মতে, আবুল সরকারের কথাবার্তা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করেনি, বরং দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী তার যথাযথ শাস্তি হলে ভবিষ্যতে আর কেউ ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার সাহস পাবে না বলে মন্তব্য করেন রাশেদ খান।
রাশেদ খান বলেন, “আমরা সমাজে শান্তি চাই, দ্বন্দ্ব চাই না। ধর্ম নিয়ে বিভাজন ও উসকানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের অধিকার আছে, কিন্তু ধর্মকে অপমান করার অধিকার কারও নেই।”
ঘটনাটি ঘিরে ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে বাউল আবুল সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার পরই সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হয়। রাশেদ খানের কঠোর অবস্থান সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।