জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরতে পারবে কি না—তা নতুনভাবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
সোমবার সন্ধ্যায় এনসিপির দুইদিনব্যাপী মনোনয়ন সাক্ষাৎকার শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “আওয়ামী লীগ যদি পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করে, তা প্রতিহত করা হবে। শেখ হাসিনার ফাঁসির পর আওয়ামী লীগ ফিরবে কি ফিরবে না, সেটি আমরা বিবেচনায় নেব।
” তার মতে, কোনো দলই আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় বহনকারী রাজনৈতিক শক্তিকে অন্ধভাবে পুনর্বাসন করা যাবে না।
এসময় তিনি জাতীয় পার্টিকে গণতন্ত্রের পথে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “দেশ গণতন্ত্রহীনতা থেকে গণতন্ত্রের দিকে হাঁটছে—নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়ায় সেটি দেখাই যাচ্ছে। কিন্তু জাতীয় পার্টি এখনো সেই পুরনো কৌশল নিয়ে রাজনৈতিক পরিবেশকে জটিল করতে চায়।” তিনি দাবি করেন, জাতীয় পার্টিকে ব্যবহার করে ভারত এবং আওয়ামী লীগ একসঙ্গে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারে।
হাসনাত আরও বলেন, “জাতীয় পার্টি ভারত ও আওয়ামী লীগের অংশ—তারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে চাইবে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হলে এর দায়ভার নিতে হবে নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে।”
এনসিপির এই মুখ্য সংগঠক দলীয় গণতন্ত্রের গুরুত্ব নিয়েও কথা বলেন। তার ভাষায়, “দলের মধ্যে গণতন্ত্র প্রয়োজন, পরিবারতন্ত্র থেকে বের হয়ে দলকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। এনসিপি তার উদাহরণ তৈরি করবে মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করে।”
এনসিপির মনোনয়ন সাক্ষাৎকারে সারাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক প্রার্থী অংশ নেওয়ায় দলটি আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করছেন। হাসনাতের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে—আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে এনসিপির অবস্থান আরও কঠোর হচ্ছে।