আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত ১০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিয়েছে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটি দাবি করছে—তাদের প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত, আর সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি দীর্ঘ তালিকাও প্রস্তুত আছে।
আট দলীয় প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়ভাবে কাজ করা খেলাফত মজলিস এখন জোটগতভাবে নির্বাচনে যাবে কি না, তা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, খেলাফত মজলিসের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে ২৭৪টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে জোটগত সমঝোতা হলে আসনসংখ্যা ১০০-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তিনি বলেন, “আমাদের ন্যূনতম লক্ষ্য ১০০ আসন। আট দলের সমন্বয় সভা শেষে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।”
আট দলের জোটশক্তির মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনাও জোরদার হয়েছে। খেলাফত আন্দোলনের এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে জোটের ভেতরে আসন ভাগাভাগি নিয়ে গভীর আলোচনার চলছে।
যেহেতু জামায়াতে ইসলামী এই প্ল্যাটফর্মের সবচেয়ে বড় দল, তাই তারা স্বাভাবিকভাবেই বেশি আসন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ঐক্যের স্বার্থে প্রতিটি দলকেই কিছুটা ছাড় দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আট দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে নির্বাচনে পাঠানো নিয়েও অভিন্ন অবস্থান তৈরি হয়েছে। ফলে প্রার্থী বাছাইয়ে শীর্ষ নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যাবে।
এদিকে নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহারও জানিয়েছেন—তাদের দলের প্রার্থী তালিকা এখনো চূড়ান্ত না হলেও অন্তত ১০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আট দলের যৌথ আলোচনাতেই নেওয়া হবে।
নির্বাচনের আগে জোট-সমঝোতা ও আসন বণ্টন নিয়ে এই তৎপরতা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।