বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো সাংবাদিকদের নিজেদের পকেটে নেওয়ার চেষ্টা করে না; বরং অনেক সময় সাংবাদিকরাই নিজেরা দলীয় অবস্থানে ঢুকে পড়েন, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
সোমবার রাজধানীর চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) আয়োজিত ‘মিডিয়া সংস্কার প্রতিবেদনের পর্যালোচনা’ সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফখরুল বলেন, দেশে সাংবাদিক সংগঠনগুলো একাধিক ভাগে বিভক্ত—ডিইউজে, বিএফইউজে থেকে শুরু করে বিভিন্ন শাখা-পক্ষ। “আপনারাই নিজেরা দলীয় হয়ে যাচ্ছেন,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো কাউকে পকেটে নিতে চায় না, কিন্তু সাংবাদিকরা নিজেরাই যদি দলীয় পকেটে ঢুকে যান তাহলে সমস্যা তৈরি হয়। তাঁর মতে, গত ১৫ বছরে গণমাধ্যমের একটি অংশ স্বেচ্ছায় ক্ষমতাসীন ফ্যাসিস্ট শাসনকে সমর্থন করেছে, যা পেশাগত নিরপেক্ষতার বড় ক্ষতি করেছে।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমের একটি মূল দায়িত্ব রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থার ভুল-ভ্রান্তি তুলে ধরা। কিন্তু সাংবাদিকরা যদি কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ বা দলের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, তবে সেই সততা ও সাহস হারিয়ে যায়। “সাংবাদিকদেরও কমিটমেন্টের প্রয়োজন আছে—রাজনৈতিক পকেট থেকে দূরে থাকতে হবে, সাহসী সাংবাদিকতা করতে হবে,” বলেন তিনি।
গণমাধ্যম সংস্কার প্রসঙ্গে ফখরুল জানান, বর্তমান সরকার একটি গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করলেও সেই প্রতিবেদন নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা যদি জনগণের ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পাই, তাহলে গণমাধ্যম সংস্কারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখা হবে। স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র টেকে না।”
সভায় তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকে পেশাগত স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে হলে সাংবাদিক সমাজকেও আত্মসমালোচনা করতে হবে। দলীয় প্রভাবমুক্ত সাহসী সাংবাদিকতাই দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।