ঢাকা–৮ আসনে বিএনপির মির্জা আব্বাস ও এনসিপির সুজনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হলে তাঁর এলাকার পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীকে বিনা খরচে ইংরেজি শেখাবেন। তাঁর এই প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মধ্যে আলোচনা তৈরি করলেও একাংশের সমালোচনার মুখেও পড়েছেন তিনি।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান সাবেক এনসিপি নেত্রী নীলা ইসরাফিল। হাদির বক্তব্য ও প্রচারণার ভাষা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যে শিক্ষকের মুখের ভাষাই এত নোংরা, সে জাতিকে কী শেখাবে?”
তিনি আরও বলেন, “নিজে মানুষ হবার শিক্ষা নেই, কিন্তু স্বপ্ন দেখে এমপি হওয়ার। দেশের ট্র্যাজেডি এখানেই—অশিক্ষিত আচরণই যেখানে যোগ্যতার মাপকাঠি, সেখানেই ক্ষমতার চাবি সবচেয়ে নোংরা হাতে চলে যায়।”
নীলা ইসরাফিল অভিযোগ করেন, যে ব্যক্তি নিজের ভাষা ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সে সংসদে গিয়ে নীতি নির্ধারণ করবে—এটা দেশের জন্য উদ্বেগজনক। তাঁর ভাষায়, “সংসদে বসে নীতি ঠিক করবে যে নিজের জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। শিক্ষকতার মতো পবিত্র অবস্থানে দাঁড়িয়ে যে গালিগালাজকে পাঠ্যবই বানায়, তার রাজনীতি যে কত নোংরা হবে তা বুঝতে গণিত জানা লাগে না।”
প্রার্থীর ইংরেজি শেখানোর ঘোষণা নিয়ে নানা মন্তব্য উঠছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। কেউ তাঁর উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকেই মনে করছেন—এটি নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আকর্ষণ তৈরির কৌশল মাত্র।
ঢাকা–৮ আসনে বিএনপি ও এনসিপির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝে হাদির এই বিতর্কিত মন্তব্য ও পাল্টা সমালোচনা ভোটারদের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামীর প্রচারণায় এই ইস্যুটি আরও বড় আকারে সামনে আসবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।