ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়লেও বাংলাদেশে কেউ বিল্ডিং কোড মানছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ, জলাধার ভরাট এবং ভূমিদস্যুতার কারণে রাজধানী ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে, অথচ দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো নীরব ভূমিকা পালন করছে।
রোববার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম পটুর স্মরণে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী অভিযোগ করেন, “ভূমিকম্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো বিল্ডিং কোডই বাস্তবে মানা হয় না। ঢাকা শহরে অনুমোদন ছাড়াই যে যেভাবে পারছে তলার পর তলা বাড়িয়ে দালান তৈরি করছে। অথচ রাজউকের কোনো তদারকি নেই।”
তিনি বলেন, রাজধানীর খাল–বিল, নদী ও জলাধার দখল করে শহরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করা হয়েছে। ভূমিদস্যুদের দখলদারিত্বে পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, ফলে বন্যা ও জলাবদ্ধতা স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, “যারা খাল ও নদী ধ্বংস করে, তারাই আবার রাজনৈতিক দলের নেতা হয়। অবৈধ উপায়ে সম্পদশালী হয়ে যায়। শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে এসব অনিয়ম সবচেয়ে বেশি ঘটেছে।”
তিনি দাবি করেন, দেশে আইন–শৃঙ্খলা, নগর পরিকল্পনা ও দুর্যোগ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে এবং এ পরিস্থিতির জন্য পূর্ববর্তী সরকার দায়ী। তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা—দখলদারিত্ব, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
আলোচনা সভায় রিজভী বলেন, নগর পরিকল্পনা অমান্য করলে ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটতে পারে। তিনি নাগরিক নিরাপত্তার স্বার্থে রাজউক, সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিএনপি এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।