বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, ৫ আগস্টের জাতীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই দেশে কন্সপাইরেসি, আন্ডারগ্রাউন্ড পলিটিক্স ও টেবিলের নিচের সব ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক রাজনীতির “কবর রচনা হয়ে গেছে”।
শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে রাজশাহী কলেজ মাঠে আয়োজিত ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে অনার্স ১ম বর্ষ ও এইচএসসি ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়। কিন্তু আদর্শিক স্পষ্টতা ও দীর্ঘদিনের লড়াই–সংগ্রামের ফলে শিক্ষার্থীরা এখন ছাত্রশিবিরের গুণগত পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছে এবং তা গ্রহণও করছে।”
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা যখন আমাদের গ্রহণ করছে, তখন একটি শ্রেণির ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। আমরা তাদেরও বলেছি—ভালো কাজে প্রতিযোগিতা করুন। ভালো কাজের প্রতিযোগিতা হলে সমাজে সুন্দর পরিবেশ তৈরি হবে, কিন্তু ভালো বনাম খারাপের প্রতিযোগিতায়ই সামাজিক কনফ্লিক্ট তৈরি হয়।”
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই নবীনবরণ ঠেকাতে অনেক কন্সপাইরেসি হয়েছে। এতে কার লাভ হবে? বরং আপনারা আগামী সপ্তাহে আরও বড় নবীনবরণ অনুষ্ঠান করুন। আমরা এই ইতিবাচক প্রতিযোগিতা চাই। কাউকে শিবির করতে বাধ্য করি না। যদি ভালো লাগে, উপকার মনে হয়, তবেই করবেন।”
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ছাত্রসংসদ নির্বাচনে শিবির প্যানেলের নিরঙ্কুশ বিজয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যখন শিক্ষার্থীরা আমাদের সামনে আসছে, তখন প্রচলিত প্রোপাগান্ডা ভেঙে গেছে। আমাদের বাস্তবতা তারা নিজেরাই দেখেছে।”
ছাত্রশিবিরের অর্থায়ন প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, সংগঠনের মূল আয়ের উৎস সদস্যদের দান। “১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিবিরের সাবেক সদস্যরা দেশের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে কাজ করছেন। তারা নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দেন। কোনো প্রোগ্রামে ১০ টাকা বরাদ্দ হলে দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিজের পকেট থেকে অতিরিক্ত যোগ করে ১২ টাকা ব্যয় করেন। এজন্য কাজের ওপর বরকত আসে।”
অনুষ্ঠানে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।