সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া—যদি তার শারীরিক অবস্থা অনুকূল থাকে। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) রাতে তার নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আকবর বলেন, “ম্যাডাম আজকে শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। তবে যদি আগামীকাল শরীরের অবস্থা ভালো থাকে, তিনি সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন—এমন পরিকল্পনা রয়েছে।”
এ তথ্য জানানো হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কারণ দীর্ঘদিন পর কোনো রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতৃত্বের উপস্থিতি নতুন রাজনৈতিক বার্তা বহন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এর আগে সেনাকুঞ্জের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ একাধিক শীর্ষ নেতা। একই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েছেন অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন ধরনের অন্তর্ভুক্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল, আগামী নির্বাচন এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সেনাকুঞ্জের এই অনুষ্ঠান এবার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
বেগম খালেদা জিয়া শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন যাবত রাজনীতির মাঠে সক্রিয় নন। তবে তার স্বাস্থ্যগত অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে তিনি সেনাকুঞ্জের সংবর্ধনায় যোগ দেবেন কি না—সেটাই এখন মূল প্রশ্ন। বিএনপি নেতারা বলছেন, তার উপস্থিতি দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় সেনাকুঞ্জে অনুষ্ঠানের মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন।