তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের ঐতিহাসিক রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন—এখন থেকে দিনের ভোট রাতে হবে না, মৃত মানুষ এসে ভোট দিয়ে যাবে না। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান কে হবেন, সেই বিষয়টি জানা যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার সকালে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
এর আগে বিচারপতি খায়রুল হকের দেওয়া তত্ত্বাবধায়ক বাতিল সংক্রান্ত রায়কে ‘কলঙ্কিত’ উল্লেখ করে আপিল বিভাগ পর্যবেক্ষণ দেয়। ১০ কার্যদিবসের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বহুল প্রতীক্ষিত এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালত জানিয়েছে—চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর হবে। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে।
গত ১১ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তনের মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত হওয়া ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার শুনানি শেষ হয়। পূর্বের রায় বাতিল করে নতুন করে আইনি ব্যাখ্যা দিতে আজকের দিনটি নির্ধারণ করেছিলেন আপিল বিভাগ।
বিএনপি, জামায়াতসহ আপিলকারীদের আইনজীবীরা শুনানিতে বলেন—যদিও তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরেছে, কিন্তু আসন্ন নির্বাচন হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। পরবর্তী নির্বাচনে এই ব্যবস্থা পূর্ণ প্রয়োগ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১০ মে তৎকালীন সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে। এরপর বিগত এক যুগ ধরে এ নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই চলছিল। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে নতুন করে আবেদন করা হয়।
চলতি বছরের ২৭ আগস্ট সর্বোচ্চ আদালত পুনর্বিবেচনার আবেদন মঞ্জুর করে আপিলের অনুমতি দেন। এরপর ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার আপিল করেন।
ঐতিহাসিক এই রায়ের পর দেশে ভোট ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে নতুন আশাবাদের সঞ্চার হয়েছে।