বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন ধামরাই এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, ছাত্র–জনতার ওপর গুলি ছোড়া এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতার পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক এবং বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় সাভারের জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন সাভার মডেল থানার এসআই জাকির আল আহসান ও এসআই ইমরান হোসাইন। বুধবার দুপুরে ঘটনাটি নিশ্চিত করেন সাভার মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা।
পুলিশ জানায়, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর থেকেই মজিবর রহমান আত্মগোপনে ছিলেন। আত্মগোপনে থেকেই তিনি পল্লী চিকিৎসক পরিচয়ে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করছিলেন। তবে ওই ফার্মেসিকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে সাভার–আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকায় অবৈধ ঝটিকা মিছিল, গাড়ি পোড়ানোসহ বিভিন্ন নাশকতা কার্যক্রমের পরিকল্পনা করতেন বলে অভিযোগ।
৬ নভেম্বর সাভারের বলিয়ারপুর এলাকায় নাশকতার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। পরে পুলিশ তাকে ধরতে বিশেষ অভিযান চালায়।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মজিবর স্বীকার করেছেন যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে তার ভূমিকা ছিল এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নাশকতা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভাড়াটে অপরাধীদের কাজে লাগানো হচ্ছিল। পুলিশ বলছে, তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মজিবর রহমান (৫০) ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের বাস্তানিয়া চর গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত বালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ছাড়াও নিষিদ্ধ ছাত্রদলীগের বৃহত্তর ঢাকা জেলার সাবেক সহ-সভাপতি এবং ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন।
পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে হামলা, গুলি করে হত্যা, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।